Tuesday, 30 October 2018

কুমড়ো পুজো : বাংলায় যাকে বলে Halloween


সবজিটা আমার কোনোদিনই ভালো লাগতো না । যেমন বাজে গন্ধ তেমনি বাজে খেতে। তবে সেটা এতো জোর গলায় সারা বিশ্বকে জানিয়ে বলার সাহস ছিল না । বিশ্ব তো ভুলে যাও, বাড়ির চার দেয়ালের মধ্যে বলার ও তেমন সুযোগ ছিল না। কড়া নিয়ম ছিল থালায় যা দেওয়া হবে সব খেয়ে নিতে হবে, ব্যাস।  ফুলস্টপ! no discussion.
নইলে সেই বড় বড় চোখ, ভাবলে আজও হাঁটু কাঁপে,গলা শুকিয়ে আসে !
ফলে সারা জীবন সুড়সুড় করে কুমড়ো খেয়ে নিয়েছি। চুপচাপ ।
কুমড়োর ছেঁচকি, কুমড়োর ছক্কা, কুমড়ো ভাতে, কুমড়োর চাটনি!
কি সব গ্ল্যামারহীন রেসিপি।
তাই খেয়েছি, নির্বিবাদে।বছরের পর বছর ।

তবে আজ বলতে দ্বিধা নেই এইসব অত্যন্ত বাজে শাক সবজির মর্ম বুঝেছি বাড়ি ছাড়ার পরে ।
বেনারস এর হোস্টেলে যখন নেনুয়ার ঝোল আর ভাত খেতে দিতো তখন মনে হতো, আহা মা কুমড়ো ছেঁচকিটা বড় ভালো বানায় !
জাপানের কলেজ ক্যান্টিনে যখন সামুদ্রিক শ্যাওলা মুড়ে একটা চিকেন দিতো (আচ্ছা ঠিক আছে ঠিক আছে, শ্যাওলা নয়, seaweed !), তখন ওই কুমড়ো ছক্কার জন্য মন কেঁদে উঠতো!
হল্যান্ড এ ছোট্টবাচ্চা নিয়ে হিমশিম খেতে খেতে যখন রান্না করতাম, ভাবতাম এইসময় কেউ যদি একটু আলুকুমড়ো দিয়ে ভাতেভাত বানিয়ে দিতো!
 কুমড়ো থাকতে কি আর আমরা কুমড়োর মর্ম বুঝি?

তাই (অনেক বছর পরে) আজকাল আমার কুমড়ো ভালোই লাগে!
ছক্কার রেসিপি ইন্টারনেট এ দেখে রান্নাও করেছি। পয়সা খরচ করে ISD তে মা কে জিজ্ঞেস করে জেনেছি কুমড়ো ছেঁচকির কথা। বানিয়েওছি কতবার। তাই দিয়ে এক থালা ভাত ও মেখে খেয়েছি খুশি মনে !আবার বড়াই করে তাই নিয়ে ব্লগ ও লিখেছি!
[হা কপাল কি দিনকাল পড়লো!, সেই anti-কুমড়ো আমি  কিনা  আজ  ....]

তবে যাই বলি না কেন, ইয়ে মানে  ....ওই আর কি .. কুমড়ো কুমড়োই ......
এমনি এমনি তো আর সুকুমার রায় কুমড়োপটাশ নিয়ে ছড়া লেখেননি !!!

" (যদি) কুম্‌ড়োপটাশ ডাকে— 
   সবাই যেন শাম্‌লা এঁটে গামলা চড়ে থাকে; 
   ছেঁচকি শাকের ঘন্ট বেটে মাথায় মলম মাখে; 
   শক্ত ইঁটের তপ্ত ঝামা ঘষতে থাকে নাকে! "

বিদেশে এসে দেখি ওমা এখানে কুমড়োর লাইফই আলাদা । ঠাট-বাট একদম অন্যরকম ।
বিনস, গাজর, বিট, ব্রকলির মতন  সফিস্টিকেটেড সবজিদের সাথে ওঠা বসা !
ক্রিমের মতন অভিজাত উপকরণের সাথে মিলে মিশে সুপ বানানো !
কিশমিশ, কাজু , পেস্তার সাথে হাত ধরাধরি করে কেক!
ভুরভুরে ভ্যানিলা এসেন্স গায়ে লাগিয়ে পুডিং!
আরো শোনো !
কুমড়ো দিয়ে পাস্তা পর্যন্ত!
(মরে যাই)

তারওপর এই হ্যালোউইন এর সময় যা করা হয়, সেটা যেন একেবারে বাড়াবাড়ি!
একটা গোটা ইভেন্ট কুমড়ো নিয়ে মাতামাতি, তার চোখ কান নাক এঁকে তাকে মাথায় চড়ানো । তার মধ্যে আলো জ্বালিয়ে......
আদিখ্যেতা!

যাগ্গে, ফ্রিজ এ কুমড়ো ছিল, বার করে রান্না করতে গিয়ে শুনি।.
(আমি তো আবার ওদের কথা শুনতে পাই).....
ঠিক যতটা ভাব ভেবেছিলাম ওদের মধ্যে ততটা নয়.....
কুমড়োর চেহারা নিয়ে টিটকিরি এখানেও চলে। ......

বিন্স :
আমার চেহারা দেখ লম্বা দোহারা,
যারা দেখে, চটপট প্রেমে পড়ে তারা !

গাজর:
আমার রূপ গুন ভিটামিনে ঠাসা !
সুপে আমি সুস্বাদু,হালুয়াতে খাসা !

বিট:
জগৎ ফিদা মোর রঙের বাহার,
স্টু এ আমি অনবদ্য, রুগীর আহার!

ফুলকপি:
ফুটফুটে ফুল আমি, ডালনা কি ভাজা
পছন্দ সবার আমি, সব সবজির রাজা !

হঠাৎ দেখি কুমড়ো যেন জেগে উঠলো   .........

তোরা বড্ড বেশি রিয়েল, পুষ্টি ভিটামিন,
আমি থাকি রূপকথায়, কিংবা Halloween !
তোরা থাকিস প্লেটে, রোজের খাওয়াদাওয়া,
আমি রথ রাজকন্যের, কল্পনাতে পাওয়া !
মজার আমি, তাই তো লেখেন ছড়া সুকুমার,
তোদের নেই ট্যালেন্ট, কবির ভাব জাগাবার !!

পাশে বসে ব্রকলি শুনছিলো । বললো, 

"Can you explain all that in English please?  I just do not understand the gibberish that you just said Mr. Pumpo!"

কুমড়ো একবার বাকিদের দিকে তাকালো। গড়িয়ে একটু এগিয়ে গেলো ।তারপর confidently ঝরঝরে ইংরিজিতে বললো,

I am in fairy tales, me the fat pumpkin,
I am the carriage that Cinderella was in!
I am bright orange, favourite of your queen,
I get to light up the evening of Halloween!

সব সবজি কাচুমাচু মুখে সরে পড়লো।
Halloween এর সময় , সত্যি কুমড়োর কনফিডেন্স অন্য লেভেলে!!

আমিও সরে পড়লাম ।
যাই কুমড়ো কেকের রেসিপি দেখি । Halloween এ ঠিক কুমড়ো ছেঁচকি জমবে না !
;-)

Thursday, 25 October 2018

ট্রাম অফিস


আজ বেশ কিছুদিন হলো ট্রামে করে অফিস যাতায়াত করছি। আসলে অফিস মুভ হয়েছে, শহরের মাঝখানে। খুব ট্রাফিক জ্যাম হয়, সেখানে গাড়ি চালিয়ে যেতে ইচ্ছে করেনা।
তাই ভাবলাম ট্রাম ট্রাই করে দেখি।

প্রথম দিকে একটু অসুবিধে লাগছিলো ঠিকই, কারণ সবই অভ্যেসের ব্যাপার কিনা।
নিজে গাড়িতে গেলে সব কিছু যেন আমার কন্ট্রোলে। (which is not entirely true, but still.....)
প্রথম  দিকে একটু অধৈর্য লাগতো। স্টপে দাঁড়িয়ে থাকা, মিনিটে মিনিটে ঘড়ি দেখা। 
সব থেকে রাগ লাগতো যখন কিছু সেকেন্ডের জন্য ট্রাম মিস হয়ে যেত। 
মুখের সামনে দিয়ে হুশ .....

ধীরে ধীরে অভ্যেস হতে লাগলো।বাড়ি থেকে অফিস ৫৫ মিনিট। ৫ মিনিট হাঁটা বাদ দিলে ট্রামে ৫০ মিনিট।
সেই ৫০ মিনিটে অনেক রকম কাজ সারতে শুরু করলাম। বই পড়া, হিজিবিজি লেখা। তারপর লোকজন দেখতে শুরু করলাম। কোথা দিয়ে যে ৫০ মিনিট কেটে যায় আজকাল।
আসে পাশের লোকজনদের মুখ চেনা হয়ে উঠলো। প্রত্যেকটি চরিত্র ইউনিক। সকালে স্কুল কলেজ অফিস যাবার expression প্রত্যেকের আলাদা।
মনে মনে কত গল্প ফাঁদতে শুরু করলাম। সে না হয় আরেকদিন বলবো গুছিয়ে ।

আজকের গল্প "ট্রামে করে অফিস" নিয়ে  নয় ।আজকের গল্প "ট্রাম অফিস" নিয়ে।
কল্লোলের ট্রাম অফিস। 
[নেদারল্যান্ডস এ আমাদের বাঙালি ক্লাব কল্লোল]

দুর্গাপুজোর বেশ কিছু মাস আগের থেকেই শুরু হয়ে গেলো কল্লোলের প্রস্তুতি । 
অনেক কাজ। দেশের বাইরে, নিজেদের রোজকার জীবন, কাজ, সংসার ...সব সামলে চারদিন ধরে পুজো করা চাট্টিখানি কথা নয়। শুধু তো মন্ত্র পড়ে পুজো করলে চলবে না । 
বাঙালির পুজোতে আনন্দের ফুল প্যাকেজ চাই । ১০০ এ ১০০!
দেবদেবীর পুজো, including হোম যজ্ঞ অঞ্জলি সন্ধিপুজো যেমন চাই, আবার সাথে চাই পেটপুজোর এলাহি আয়োজন। তাতে ভোগ লাবড়া থেকে ফিস ফ্রাই, কিছু যেন বাদ না পরে।
(কে বুঝি এবার কাসুন্দির ও খোঁজ করেছিলেন)
তারপর চাই কালচার। নাচে গানে ভরপুর প্রোগ্রাম চাই রোজ। তাতে একটা নৃত্যনাট্য চাই, অষ্টমীতে বাংলা নাটক চাই, আবার জীবনমুখী গান ও চাই।
এছাড়া চাই আনন্দমেলা, দেবী বরণ , সিঁদুর খেলা, পুজোসংখ্যার ম্যাগাজিন। ...সব সব ।
দুর্গাপুজো includes everything, all equally important!

দুর্গাপুজোর জাঁকজমক সত্যি অন্য রকম । সে যে দেশেই থাকি না কেন ।
প্রত্যেকটি মুহূর্তের সাথে আমাদের ছোটবেলা জড়িত। প্রত্যেকটি চাহিদার সাথে কিছু স্মৃতি যা ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। প্রত্যেকটি আলোচনায় একটা নিজের দেশের অনুভূতি।
আর তাই বোধহয়, সবাই এত পরিশ্রম করে আমরা বিদেশের মাটিতে এমনি ভাবে পুজো করতে পারি।কোথায় যেন ভক্তি, ভালোবাসা, স্মৃতি, ছোটবেলা, পরিবার, খাওয়াদাওয়া মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। 
ফাইনাল অনুভূতিটা বড্ড আনন্দের!

যাগ্গে যেটা বলছিলাম। ট্রাম অফিস ।
এই পুজোর প্রস্তুতির একটা অন্যতম অঙ্গ হয়ে উঠলো ট্রাম নং ১৭। 
সকাল ৮ থেকে ৮:৫০ আর বিকেল ৫:৩০ থেকে ৬:২০ ট্রাম নং ১৭ হয়ে উঠলো পুজোর অফিস। 

টিম দারুন ব্যস্ত।

"The next stop is Laan Copes van Cattenburch. Do not forget to use your OV chipcard after your stop has been announced......."

"হ্যালো "
"হ্যালো।  হ্যাঁ, ট্রাম থেকে বলছি ........"

"শোনো, মিষ্টির অর্ডার আজকে ফাইনাল করতেই হবে । নবমী রাতে রসমালাই নাকি গুলাবজামুন?"
প্রায় সাড়ে সাত মিনিট রসমালাই Vs গুলাবজামুনের pros/cons ডিসকাস করে তবে নিশ্চিন্ত বাঙালি । রসমালাই definitely !

" আচ্ছা, ইন্ডিয়া থেকে কেউ আসছে? একটা গেরুয়া ধুতি আর ফতুয়া চাই অষ্টমীর নাটকের সাধুর রোলের জন্য"
প্রায় সোয়া এগারো  মিনিট আলোচনার পর ধুতি ফতুয়ার ব্যবস্থা করে তবে নিশ্চিন্ত বাঙালি।

" ম্যাগাজিন software টা download করেছি, version 1.0 pdf করে পাঠালাম, একটু চেক করে ফিডব্যাক চাই, meanwhile whatsapp এ প্রিন্টার নিয়ে কথা বলছি  "
পৌনে নয় মিনিট আলোচনা।  আমাদের লোকাল পুজোসংখ্যা আলোচনা করে নিশ্চিন্ত বাঙালি ।

" চটপট বলো ।  কমিটি মিটিং এর জন্য সিঙ্গারা ৫০ টা  অর্ডার করবো নাকি ৬০? "
পাক্কা ষোলো  মিনিট হেড কাউন্ট করা হলো। যদিও গুনে ৪৫ হচ্ছে তবুও ৬০ টাই অর্ডার করা উচিত, যেন কম না পড়ে । খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে বাঙালি কোনো রিস্ক নিতে রাজি নয় ।

তারই মাঝে  .......
"মা, আমার স্পোর্টসএর মোজা কোথায়? খুঁজে পাচ্ছিনা "
"আমার অফিস থেকে ফিরতে একটু দেরি হবে, আজকে ডিনার কি?'

"হ্যালো "
"হ্যালো।  হ্যাঁ, ট্রাম থেকে বলছি ........"

"সেকি আনন্দমেলায় ভেজিটেবিল চপ থাকবে না ? কাবাব চাট সামোসা থাকছে....."

"শোনোনা, সপ্তমী প্রোগ্রামের জন্য একটা কাঁথা স্টিচ ওড়না লাগবে"

"All flowers have been ordered. Should I ask them to deliver at 8:00?"

"ধোকার ডালনা অত সোজা না, রেসিপি পাঠিয়েছি কিন্তু আমাদের ফুড টেস্টিং এর ব্যবস্থা করতে হবে"

"স্পন্সরশিপের টাকা এসে গেছে, ইনভয়েস পাঠিয়ে দিলুম"

"Online registration বলছে ৩৫০ অষ্টমীতে !  ১০% বাফার রাখছি তাহলে.."

"তুই sure  ৫ টা ধুনুচি আছে আমাদের স্টোরে ? দশকর্মার জিনিস তো অবশ্য আসছেই "

" বলছি কি, সপ্তমী ভোগ এর জন্য এখনো কাউকে পাইনি  ........"

"পুরোহিত মশাইয়ের হোটেল বুক করে দিয়েছি, date তা একটু চেক করে নিও "

"নানা, হলটা পঞ্চমীর দিনেও বুক করে দিতে হবে..logistics ডিসকাস হয়নি আগের দিন "

"আচ্ছা রিহার্সাল এ কি বিরিয়ানির  ব্যবস্থা হবে নাকি বাটার চিকেন?"

"Facebook এ countdown এ আজকে মেনু লাগাও, কবে যেন চিংড়ি মাছের মালাইকারি?"
........
.......
.......

"The next stop is Parijsplein. Do not forget to use your OV chipcard after your stop has been announced......."

পুজো শেষ।
আজকে ট্রাম অফিস শান্ত। ফোন বাজছে না ।

আমার পাশের ডাচ ভদ্রলোক (মুখ চেনা হয়ে গেছে) বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছেন ।
এই বুঝি জিজ্ঞেস করেই ফেলবেন ...
"দূর্গা পুজো শেষ?'

ps: All characters appearing in this work are fictitious. Any resemblance to real persons, living or dead, is purely coincidental.
;-)

Monday, 20 August 2018

স্কিম-স্ক্যাম (Scheme-Scam)

দেশ থেকে ফিরলাম । আবার কিছু observation নিয়ে ।
😀

দেখলাম আমাদের দেশটা হয়  স্কিম কিংবা স্ক্যাম কিংবা স্কিম-স্ক্যামে চলছে !
যেখানে যা কিনতে যাই, একটা স্কিম আছে আর নিউজ খুললেই একটা স্ক্যাম আছে !
নিস্তার নেই দুটোর থেকেই   ......

যে কোনো জিনিস "Free " পেতে আমরা সবাই বড্ড ভালোবাসি। ফ্রি কিছু পাওয়ার আনন্দে আমরা মাঝে মাঝে এটাও ভুলে যাই যে সেই জিনিষটা আদপে আমাদের দরকার আছে কিনা বা আমাদের কিছু ক্ষতি করছে কিনা ! Free মানেই "good deal "!



স্কিম ১:
সেদিন টুকটাক বাজার সেরে  আমি আর কর্তা ঢুকলাম একটা রেস্টোরেন্টে ।
সুন্দর ঝকঝকে সাজানো। বাঁশি-ড্রামস যুগলবন্দীর সুর । AC -র ঠান্ডা হাওয়া । ফিটফাট উর্দি পড়া স্মার্ট লোকজন।
Relaxed !
অর্ডার দিলাম একটা বিয়ার, একটা মার্গারিটা।
ছেলেটি এক গাল হাসি নিয়ে বললো,
"ম্যাডাম, স্কিম আছে একটা। Buy two, Get one."

সত্যি বলতে কি এক মিনিটের জন্য আমিই হতবাক! এমনি স্কিম(স্ক্যাম) ও আজকাল হচ্ছে নাকি?
বললাম, " আমি দুটো pay করে একটা কেন নেবো?"
বললো: ম্যাডাম, দুটো নিলে আরেকটা ফ্রি ! Happy Hour !
বললাম, "তাহলে Buy two, get one FREE বলা উচিত না?"
মিষ্টি হেসে বললো,  "ঐটাই বলতে চাইছিলাম" ।
তারপর কর্তার দিকে তাকিয়ে বললো , "স্যার, আপনার বিয়ারেও একই স্কিম আছে "

মেনুকার্ডটা হাতে এগিয়ে দিয়ে ছেলেটি গেলো ড্রিঙ্কস আনতে ।

মেনুকার্ডে লোভনীয় সব খাবারের ছবি । আমি আর কর্তা লোলুপ দৃষ্টিতে সেইদিকে তাকিয়ে কি খাবো ভাবতে লাগলাম।
খিদে যে খুব তা নয়, তবে দৃষ্টি খিদে খুব ডেঞ্জেরাস জিনিস! ছবি দেখেই জিভে জল। পারলে সব অর্ডার করি! তাছাড়া কর্তা গিন্নি দুজনেই আমরা খাদ্যরসিক, ঐসব ক্যালোরি-ফ্যালোরি তে তেমন বিশ্বাস করিনা!
(বিশ্বাস না হয় আমাদের weighing machine কে জিজ্ঞেস করুন!)

ছেলেটি এলো একটা বিয়ার  আর একটা মার্গারিটা নিয়ে । হাসি মুখ।
ততক্ষনে আমি আর কর্তা মেনুকার্ড থেকে appetizer পছন্দ করে ফেলেছি ।

"স্যার, appetizer এও  একটা স্কিম আছে। দুটো নিলে যেইটা কম দামের সেটা ফ্রি, আর তিনটে নিলে, চতুর্থটা ফ্রি "

এই রে! Massive complicated scheme !
আমি আর কর্তা  মুখ চাওয়া চাওয়ি করলাম।আমরা এতক্ষন ধরে যে একটা ডিসিশন নিলাম সেইটা গুবলেট হয়ে গেলো এই স্কিম  শুনে। ....Totally confused !
কটা নিলে কটা ফ্রি --এই গণিত বুঝতে এবং ভাবতে গিয়ে ঠিক কি খেতে চাই সেটাই ভুলে গেলাম।

মন শক্ত করে বললাম : একটা Classic nachos  আর একটা Tostada chips ।
বললো:  ম্যাডাম, আরেকটা অর্ডার করে দিন, তাহলে ফোর্থ ডিশ টা ফ্রি।
বললাম:  এতো তো খেতে পারবোনা ভাই, পেট তো একটাই। তোমরা ফ্রি দিলে তো হবে না, হজমটা তো আমাদের করতে হবে। সেটা তো আর ফ্রি নয় ।
ছেলেটি আমার এই  ডায়ালগ একেবারেই appreciate করলো না  । হাসিটা যেন একটু কমে গেলো।
আমরা যেন ওর সব হিসেব ঘেঁটে দিয়েছি!

একটু বাদেই খাবার এলো । খুব ভালো টেস্ট ।
তৃপ্তি করে আমরা খেলাম, খেতে খেতে আরো একটি বিয়ার ও মার্গারিটাও অর্ডার করলাম।
পেট মন দুই ভরলো । কি তৃপ্তি! আহা....
নিন্দুকেরা যে কেন ক্যালোরি নিয়ে এতো বাজে বাজে rumour ছড়ায় বুঝিনা ।

বিল আনতে  বললাম।
ছেলেটি ততক্ষনে ট্রেতে সাজিয়ে তিন নম্বর বিয়ার আর মার্গারিটা এনে হাজির!
বললাম:  একি, এটা তো অর্ডার দিই  নি ।
এক গাল হেসে বললো, "ম্যাডাম এটা তো স্কিম এ ফ্রি ছিল"
বললাম : পেটে  তো আর জায়গা নেই ।
বললো: কিন্তু এটা তো ফ্রি ....
ফ্রি জিনিস  ও  যে কেউ প্রত্যাখ্যান করে, সেটার কোনো কন্সেপ্টই নেই বুঝলাম!

ঘড়ি দেখে বললাম: তখন তো বললে, "Happy Hour " !
আরো এক গাল হেসে ছেলেটি  বললো , "আজ সারাদিন Happy Hour ম্যাডাম "
বোঝো ঠেলা !সারাদিন Happy Hour !
খেতে পারলাম না ফ্রি ড্রিংক দুটো!
এহেন লোভনীয় স্কিম অবজ্ঞা করে বেরিয়ে যাওয়াতে ছেলেটি যারপরনাই আহত হলো বুঝতে পারলাম। মুখে আর হাসি নেই।

স্কিম ২:
মায়ের সাথে বিস্কুট কিনছিলাম।  Cookies, to be more precise.
৫০০ গ্রাম কুকিস ৫০০ টাকা। ওজনে তাতে যা কুকিজ উঠলো, আমাদের পরিবারের জন্য যথেষ্ট।
কিন্তু  .......

"ম্যাডাম, একটা স্কিম আছে । ৯০০ গ্রাম নিলে ৬০০ টাকা দাম । সাথে এই cookie-jar Free"
বলে দোকানদার একটা সুন্দর প্লাস্টিকের কুকি ভরা কৌটো দেখিয়ে দিলো ।

মায়ের দিকে তাকালাম।
আমি Sure যে এতো কুকি দেখে মা আঁতকে উঠে বলবে "আরে বাবা অত কিনিস না, কে খাবে? "
এটাই expected usual response ।
কিন্তু তাকিয়ে দেখি মায়ের চোখ তখন গোলাপি ঢাকনাওয়ালা প্লাস্টিকের কৌটোয় (cookie-jar) আটকে গেছে ।
মা বললো , "কি সুন্দর না কৌটোটা?"
ব্যাস, বুঝলাম স্কিম সাকসেসফুল !
এখন সব কুকি-ফুকি ভুলে মা কেবল কৌটো দেখছে ! ঠিক অর্জুন যেমন মাছের চোখ দেখেছিলো! Totally focused !প্লাস্টিকের এমনি কৌটো (তাও আবার গোলাপি ঢাকনা)  "স্কীমে" FREE পাওয়া কি চাট্টিখানি কথা? মনে মনে হয়তো ভাবছে এই কৌটো খালি হলে তাতে ছাতু রাখবে নাকি বিউলির ডাল!
দোকানদার খুশি হয়ে বললো, "মাসিমা, দিয়ে দি তাহলে ৯০০ গ্রাম?"
বুঝলাম স্কিম-স্ক্যামে জড়িয়ে পড়েছি । .....কোনো নিস্তার নেই।

একই স্কীম-স্ক্যাম দেখা গেলো এক মাসির বাড়িতেও।
মেসোকে বারবার হরলিক্স খাওয়ার জন্য অনুরোধ করতে করতে মাসি বললো  .....
"হরলিক্সটা শরীরের জন্য খুবই ভালো, বার বার বলছি তোর মেসোকে। কিছু ভুল বলছি বল?
তাছাড়া স্কীমে ১ কিলো হরলিক্স এর সাথে ২টো "খুব সুন্দর" কাঁচের গ্লাস FREE দিচ্ছে!"

[এখানে মা/মাসি একেবারেই কাল্পনিক চরিত্র কিন্তু। আমার মা / শাশুড়িমা কিম্বা অন্য কোনো আত্মীয়ার সাথে কোনো মিল নেই ;-)]

স্কিম ৩:
ক্যাশ কাউন্টারে  বিল পে করছিলাম।
ছেলেটি বললো , "ম্যাডাম আপনার মোবাইল নম্বরটা?"
বললাম : মোবাইল নেই!
একটু অবাক হয়ে বললো , "আমাদের দোকানের মেম্বারশিপ কার্ড আছে?"
বললাম : নেই !
বললো : একটা বানিয়ে দি?
বললাম : না ,  কার্ড বানাতে হবে না , আপনি বিলটা  ক্লিয়ার করে দিন ।
বললো : কার্ডটা বানিয়ে নিন ম্যাডাম,  নতুন কার্ড বানালে একটা স্কিম আছে।  আপনি পাবেন "সুহানা স্পা" র তরফ থেকে একটা ফ্রি ম্যাসাজ আর একটা "সুহানা" বডি লোশন ।
বললাম : না লাগবে না, প্লিস বিলটা বানান ।
নাছোড়বান্দা ।
"কিন্তু ম্যাডাম, সুহানার ফ্রি ম্যাসাজটা খুবই ভালো অফার , এমনি স্কিম পাবেন না কোথাও।" 
গম্ভীর মুখে বললাম "আমি ম্যাসাজ এবং বডি লোশন একদম পছন্দ করিনা  ...

ছেলেটির হাসি ভ্যানিশ ।
কোনোরকমে স্কিম-স্ক্যাম থেকে বেঁচে পালালাম।

দেশে বড্ড বেশি স্কিম ! নানা সরি, স্কিম -স্ক্যাম !!
😀

[.to be continued, যদি না কেউ পেটায় এইটা পড়ে ]

Sunday, 22 July 2018

রাজা প্রজা

pc:whatsapp 

রূপে গুনে সব কিছুতে আমি উত্তম অতি,
সারা বাংলা হাবুডুবু ,  প্রেমে আমার প্রতি !
চকচকে এই রুপালি রঙে মাছের বাজার আলো,
বাজার জুড়ে হচ্ছে নিলাম, ভাবতে লাগে ভালো !
রুই কাতলা বড্ড বোরিং, রোজকার ঝোল পাতে,
ট্যালটেলে এক ডেকচি ভরা, সাঁতরে বেড়ায় তাতে!
পারশে মাছের মেনে নিলাম মন্দ নয়কো স্বাদ,
এমন কিছু আহামরি নয়, দিতে পারো বাদ !  
বাটাখানা কেমন জানি নামেই খেয়েছে মার,
যার নামে জুতো ফেমাস, কি আর হবে তার??
ট্যাংরাখানা টেস্টি বটে তবে বড্ড যেন রোগা,
চেহারায় নেই চটক কোনো, পিলে জ্বরে ভোগা !
শোল, আড় বড্ড ফ্যাটি, রাঁধবে তুমি খেটে ,
খাবার পরে চাই Gelusil, সয়না তেমন পেটে !
ভেটকি জানি হট ফেভারিট, দারুন ফিস fry,
চোওয়া ঢেকুরের গ্যারেন্টি, দিলাম আমি ভাই !
চিংড়িভায়া ভোলাভালা তবে একটুখানি বোকা,
নিজেকে ভাবে মাছ কিন্তু আসলে জলের পোকা! 
পুঁটি, মোরোলা, কই, এরা মাছ রাজ্যে নগন্য,
আমার সাথে এক প্লেটে থাকলে জীবন ধন্য!

নিজের কথা কি আর বলি, সব কিছুতেই স্বাদ,
এমন কোনো অংশ নেই যা দিতে পারো বাদ।
ল্যাজা ,মুড়ো, গাদা, পিঠ, সবই যাবে পেটে,
যাই বানাবে আমায় দিয়ে খাবে আঙ্গুল চেটে !
ঝোল রাঁধবে বেগুন দিয়ে কিম্বা সর্ষে ঝাল,
ভাপা দিয়ে মেখে তুমি, ভাত খাবে এক থাল।
খিচুড়ির সাথে জমবে ভাজা মুচমুচে আর কড়া ,
প্রথম পাতে খেতে পারো আমার ডিমের  বড়া !!
আমার মাথার ঘন্ট বানাও পুঁইশাক দিয়ে কষে,
লিখে দিলাম খাবে যে জন ভাত চাইবে শেষে!
জানি আমার  দাম খানা একটু বেশি চড়া,
যে সে মাছ খাচ্ছ না ভাই, মাছের রাজা সেরা !
কর্তা খুশি, গিন্নি খুশি, ভিষণ খুশি জামাই ,
মাছের রাজা থাকলে পাতে জীবনে আর কি চাই?

রুই কাতলা বাটা পারসে কই মৌরলা চিংড়ি ট্যাংরা 
[Chorus ]:

ওরে এবার চুপ কর তুই, আচ্ছা হয়েছে জ্বালা , 
তোর ঢাক শুনে আমাদের কান(কো) ঝালাপালা।
তোর কাঁটা বাছতে গিয়ে চোখের power বাড়ে,
খাবার পরে এক সপ্তাহ বাড়িতে গন্ধ ছাড়ে!
বর্ষা যাবে, তুই ও যাবি, এত গর্ব কিসে?
যে কদিন আছিস সাথে, থাক না মিলে মিশে ।
একটাই life, সবই মায়া, ঝাল কিংবা ভাজা,
গরম তেলে পড়লে একই, প্রজা হোক বা রাজা!

-দয়িতা রায় 

Monday, 16 July 2018

বিশ্বকাপের হিজিবিজি


pc: Indiatoday.in

বসে ছিলাম একটি মাস, অসীম ধৈর্য ধরে,
কে জিতবে আমায়, কেগো নেবে আপন করে !
কান্না হাসি উত্তেজনায়, ভরিয়ে সবার মন,
ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ আটকে অনুক্ষণ!
খেলার মতন খেলা হলো, হে হারে কে জেতে,
ছুটলো সবাই বলের সাথে, উঠলো জগত মেতে!
মাতলাম আমি ফরাসি হয়ে, জিতের উন্মাদনা,
বইলাম আমি ক্রোয়েট চোখে হয়ে অশ্রুকণা !

সবার চাইতে বড় হলো খেলার মাঠে খেলা,
হারজিত তো আছেই লেগে, কাপ মেডেলের মেলা!
কেউ জিতবে কেউ বা যাবে ভালো খেলেও হেরে,
কেউবা আবার হেরেও নেবে সকলের মন কেড়ে!
আজ স্বপ্ন দেখতে শিখিয়ে দিলো ছোট্ট একটি দেশ,
থাকবে বেঁচে সবার মনে এই  স্বপ্ন দেখার রেশ.....
কান্না হাসি পাশাপাশি, তবেই জীবন চলে,
হারকে যে নেয় আলিঙ্গনে, তাকেই জয়ী বলে।

স্বপ্ন নতুন উঠবে সেজে কত আমায়  ঘিরে,
কান্না হাসির লোভে আবার আসবো আমি ফিরে!
দিন গোনা আজ শুরু হলো, আবার নামবো মাঠে,
হাসবো কাঁদবো খেলবো আবার হিজিবিজির পাঠে!

pc:dnaindia.com

হিজিবিজি আজ খুব খুশি।হিজিবিজির দুই বন্ধু পাঠালো Real-time World Cup coverage !!
With Camera person Saurabh SenGupta from Croatia and Debasmita Moulick from Moscow!












Sunday, 15 July 2018

......মহারানীর ডায়রি থেকে


edmontonjournal.com

দিনটা কাল কাটলো বাজে, চারিদিকে ডামাডোল,
দুপুরে এলো বাবাজীবন, বিকেলে দুটো গোল !
ঘড়ির কাঁটায় ৮ মিনিট লেট, এমনি অবহেলা !
হাঁটলো আমার পায়ে পায়ে, মারলো দুবার ঠেলা!
অদ্ভুত এই মানুষখানি কি করে চালায় দেশ,
Mel-বৌমা মিষ্টি হাসি , লাগলো আমার বেশ !

দুই বৌমা টেনিস দেখে ফিরলো বাড়ি কাল,
বড় বৌমা ভাত বসালো, ছোট মুসুরির ডাল !
আজ বসবো শান্তিমনে,  প্রাসাদে একলা বিকেলবেলা,
ফিস এন্ড চিপস খেতে খেতে জমিয়ে দেখবো খেলা !!








Friday, 13 July 2018

হরি বোল

89.35
Croatia 1 -1  England

বাড়িতে হরি, মাঠেও হরি,
চারিদিকে আজ হরি হে,
আজকে দুগোল যে দেবে ভাই
আমার মনের হরি সে !

হরি বোল হরি বোল হরি বোল হরি বোল .........

শ্বেত বসন পরনে হরি,
মাঠময় কত শোভা হে,
আজকে দুগোল দেবেই দেবে
আমার মনের হরি সে !

হরি বোল হরি বোল হরি বোল হরি বোল .........

ছোটবৌ, তুমি পয়া । এস আমার পাশে বসো । একসাথে কীর্তনটা ধরো ।
এই বয়সে কি এতো টেনশান একা নিতে পারি?
খাটের তলা থেকে গয়নার বাক্সটা নিয়ে এসো। আজ জিতলে সব তোমার। .

Extra time:
Croatia 2 -1  England

ছোটবৌ: চাইনা আমার রত্নচূড়া কানপাশা সাতনড়ি
                হারজিত সব মায়া রানীমা , আমার আছে হরি!!!