গ্যাস, মাছ, নির্বাচন
তিনটি বিষয়ই বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় ।
তিনটিতেই বাঙালির প্রচুর জ্ঞান এবং তিনটিকে ঘিরে বাঙালি অত্যন্ত ভাবপ্রবণ।
বাংলায় যাকে বলে "sensitive"!
বাংলায় যাকে বলে "sensitive"!
![]() |
| pc: The Hindu |
বাঙালির গ্যাস নিয়ে একটা ইয়ে .... মানে ....দুর্বলতা আছে.।সহজেই এই বিষয়ে ইমোশনাল হয়ে যায় ।
একাধারে ভোজন রসিক, অন্যধারে কিছু খেলেই একটা 'গ্যাস হয়ে যাবে' ভয় - এই নিয়েই বাঙালির জীবনের অনেকটা সময় কেটে যায় ।
কি কি খেলে গ্যাস হতে পারে সেটা নিয়ে প্রথমে প্রচুর আলোচনা-বিবেচনা ..
গ্যাস যাতে না হয় তাই খাবার আগেই দুটো Pantec40...
এরপরেও যদি গ্যাস হয় তাহলে দুটো Gelusil চিবিয়ে জল দিয়ে ...
তাও যদি পেট ঢিস ঢিস করে, তবে এক কাপ উষ্ণ জলে জোয়ানের আরক দুই ঢাকনা ..
সাথে চোয়া ঢেকুর উঠলে, পেটে হালকা করে নারকোল তেল আর জল মালিশ ...
এরপর এক গ্লাস Sprite, ব্যালকনিতে ব্যাজার মুখে কিছুক্ষন পায়চারি, Charles law-Boyles law মাথায় রেখে গ্যাস নির্গত করা, ইত্যাদি -- সে এলাহী কারবার - almost a project!
তা সেই বাঙালির গ্যাস এর ঘাটতি - ভাবা যায়?
নো জোকস please - বাঙালির গ্যাস নেই - this is serious business!
![]() |
| pc:Instagram |
এবার আসা যাক মাছ এবং নির্বাচনের ব্যাপারে - equally sensitive, ইফ নট মোর !!
সকাল ৮টায় হাতে থলি নিয়ে বাবু বাজার যান ।এদিক ওদিক একটু ঘুরে সোজা মাছের দোকানে ।
'কি রে টাটকা হবে তো?'
'আজ্ঞে বাবু, এই তো লাফাচ্ছিলো '।
'তা আমাকে দেখে ঝিমিয়ে পড়লো নাকি? আমি মাছ চিনিনা?'
'আজ্ঞে না বাবু, আপনাকে কি আমি আজ অবধি কোনোদিন খারাপ মাছ দিয়েছি? এই পাড়ায় আমাকে থাকতে হবেনা?
'শোন, বাজে না বকে আমাকে ওই এক কিলো কাতলা কেটে দে - দেখি কানকোটা একটু তুলে দেখা, পেটি গাদা মিলিয়ে দিবি'
'বাবু, আপনার মুড়োটা?'
'অবশ্যই, গিন্নি মুড়িঘন্ট বানাবে যে'
'বাবু , ট্যাংরা একদম ফ্রেশ । অল্প করে দি? কালোজিরে লঙ্কা কাটা ঝোল দারুন লাগবে'
'ওসব ফ্রেশ-ট্রেস আমাকে বোঝাস না - দেখেই বলে দেবো freezer এর মাছ । চিংড়ি কত করে দিছিস?'
'এমনিতে ৯০০, আপনার জন্য ৭৫০!'
'আচ্ছা দে, ওটা এক কিলো দিয়ে দে, বাজারে ভালো কচুর লতি দেখে এলাম'
ব্যাস বাবু খুশ ! এবার বাড়ি গিয়ে চান সেরে, মাছের ঝোল ভাত খেয়ে দুলকি চালে অফিস ।
এহেন মাছ-কাতর বাঙালিকে মাছ খেতে দেবেনা বললে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে না?
চিন্তার কোনো কারণ নেই, উপায় আছে - নির্বাচন!
... and this time election is 'fishy' business!!
কালো হাত, লাল হাত, নীল হাত ,সবুজ হাত ...ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও - সব রঙের হাতের ব্যাপারেই বাঙালির প্রচুর উত্তেজনা ।তা সে যে রঙের হাতই হোক না কেন, তাতে যদি একটা তাজা মাছ ঝুলিয়ে দেয়া হয়, তাহলে সব সমস্যার সমাধান।
তাই এবারের নির্বাচন প্রচারে মাছ এক অন্যতম মুদ্দা !!
Vote for me, I come with fish!
উন্নতি-ফুন্নতি, শিক্ষা-ফিক্ষা, নীতি-ফিতি, চাকরি-ফাকরি পরে দেখা যাবে ....
(হায় রে বাঙালি - এই রাজ্যের কেউ একদিন বলেছিলো give me blood, I will give you freedom)
😎
এই সূত্রে হিজিবিজি-পাঁচালি-কবির পুরোনো কয়েকটা লাইন মনে পড়ে গেলো :
[পাঠকদের কাছে অনুরোধ লক্ষী পাঁচালির মতন দুলে দুলে সুর করে পড়ুন...]
গ্রীষ্মের ঘেমো হাওয়া নির্মল আকাশ,
থমকিয়া দাঁড়াইয়া ভোটের বাতাস ।
গ্রীষ্মের ঘেমো হাওয়া নির্মল আকাশ,
থমকিয়া দাঁড়াইয়া ভোটের বাতাস ।
মর্তে বসে নরনারী গোনে দিন ক্ষণ,
হইতেছে চিন্তা কে পাইবে সিংহাসন !
হাত-পদ্ম-তৃণ-কাস্তে কিসে পড়িবে ছাপ,
ভাবিয়া ইহা বাড়ে মানসিক চাপ !
হেনকালে বীনাহস্তে নারদ মুনিবর,
আসিলেন লইয়া সাথে মর্তের খবর !
কহিলেন, প্রভু মর্তে দেখি ঘোর কলি,
কাহারে ছাড়িয়া আমি কার কথা বলি !
সৃষ্টি করিলেন যাদের করিয়া যতন,
নির্বাচনকালে তাদের অধঃপতন!
ধর্ম-টর্ম জাত-পাত অযথা তুলিয়া,
হিংসায় ভরিছে মন, ভালোবাসা ভুলিয়া।
নারদের বাক্য শুনি, লক্ষীঠাকুরানী,
সঘনে নিশ্বাস ত্যাজি কহে মৃদুবানী।
মুনিবর, শুনিলাম মর্তের বিবরণ,
গদি ও ক্ষমতার লোভে মগ্ন সর্বজন ! (innocent rhyming, no sarcasm )
জনতারে দিয়েছিলাম বুদ্ধি অনেক,
ভালোমন্দ করিতে বিচার, ভাবিয়া ক্ষণেক!
নিজ বুদ্ধি স্বেচ্ছায় রাখে যে তুলিয়া,
কপট নেতার কথায় যায় সব ভুলিয়া !
তাই,
Strategy বদলাইয়া এবার দেবদেবীগণ,
Chill থাকিব মোরা করিয়াছি পণ !!
বাড়াবো না BP আর শুধু শুধু রোষে,
ভুগিবে মর্তবাসী নিজ কর্মদোষে !
যদি বুদ্ধি বিবেক দিয়া না করে নির্বাচন
আনিবে ডাকিয়া তারা নিজের পতন ........
ভোট ব্রতকথা আজ হলো সমাপন,
May the best win and get the সিংহাসন!
ভোট ব্রতকথা আজ হলো সমাপন,
May the best win and get the সিংহাসন!


No comments:
Post a Comment