Thursday, 26 August 2021

বই পোকা


আজ অনেকদিন বাদে একটু হিজিবিজি লিখতে ইচ্ছে করলো । 
একটা বাংলা বই পড়তে পড়তে স্মৃতির কোণায় কিছু ঘটনা উঁকি ঝুঁকি দিলো বলে বোধহয় ..
বাংলা বইয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্মেছিলো তিনটি প্রধান সূত্র থেকে ।

১. হাই স্কুলের বাংলা টিচার :  
ব্যাকরণটা একদমই ভালো লাগতো না জুনিয়ার স্কুলে। ওই সব সন্ধি-ফন্ধি, কারক-ফারক, সমাস-ফমাস। কোনোরকমে মুখস্থ করে পরীক্ষায় পাস্ নম্বর আনার জন্য পড়তাম। সত্যি বলতে কি, কান ঘেঁষে পাস  করতাম প্রত্যেকবার। হাতের লেখাটা ভাল ছিলো, হয়তো বা দু-এক নম্বর neatness এ দিয়ে পাস করিয়ে দিতেন মিসরা । সে যাগ্গে, এখন ব্যাকরণ নিয়ে আলোচনা করে কোনো লাভ নেই। বাংলা ভালো লাগতে শুরু করলো ক্লাস ৮ থেকে। ভালো  লাগার কারণ দুই বাংলা মিস। মিস মিত্র আর মিসেস চৌধুরী । দুজনে হাতে কলমে বাংলা ভালোবাসতে শিখিয়েছিলেন। সন্ধি-কারক-সমাসের উর্দ্ধে মনের ভাব কি ভাবে প্রকাশ করে আনন্দ পাওয়া যায় তাই শিখিয়েছিলেন । বাংলা লিখে ও পড়ে আনন্দ পেতে শিখিয়েছিলেন । ইংলিশ বইয়ের পোকা বরাবরই ছিলাম কিন্তু ওনারা বাংলা বইয়ের পোকা করে দিয়েছিলেন। স্কুলের বাংলা বইয়ের ছোট্ট লাইব্রেরিটা হয়ে উঠেছিল এক বিরাট আকর্ষণ। শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের লাল রঙের অমনিবাস হয়ে উঠেছিল নিত্যসঙ্গী!  কখনো ফিজিক্স বইয়ের ভেতর লুকিয়ে, আবার কখনো লেপের তলায় টর্চ জেলে। 
বইপোকা!

২. জেঠতুতো দিদি : 
দিদি আমাদের ভাইবোনদের মধ্যে সব থেকে গুণী । পড়াশোনায় যেমন ভালো আবার তেমনি গল্পের বইয়ের পোকা । কিন্তু ওই পড়াশোনায় ভালো বলে সাত খুন মাফ - কেউ কিছু বলতোনা - সে যতই গল্পের বই পড়ুক। আমি বরাবরই দিদির খুব ন্যাওটা, আবার খুব বন্ধুও । প্রত্যেক বছর যখন জামশেদপুর যেতাম গরমের বা পুজোর ছুটিতে, তখন দিদির সাথে পাড়ার ক্লাবের লাইব্রেরি যেতাম ।  নিয়মকরে প্রায় রোজ সন্ধেবেলা । লাইব্রেরিয়ান কাকু দিদিকে দেখলেই বলতেন "আর নতুন কিছু বই নেই তোকে দেবার, সবই তো তোর পড়া !!"। সেটা শুনে  আমার খুব মজা লাগতো । আমার তখন বাংলা বইয়ের প্রতি তেমন আকর্ষণ নেই । দিদি দুপুর বেলা বই পড়তো শুয়ে শুয়ে । আসতে আসতে আমার হাতেও দু একটা উপন্যাস ধরাতে লাগলো । কোনটা প্রেমের গল্প, কোনটা ডিটেক্টিভ রহস্য, কোনটা ভ্রমণকাহিনী   -- 'বড়দের' লাইব্রেরি থেকে 'বড়দের' বই!  সে এক দারুন  উত্তেজনা । অনেক লেখকের সাথে আলাপ করালো দিদি,  গরমের দুপুরে বিছানায় গড়িয়ে গড়িয়ে বাংলা গল্পের বই পড়ার আনন্দ অনুভব করালো । সে অভ্যেস টিকে গেলো। বইপোকা!

৩. মাসি :  
আমার খুব ঘনিষ্ট বান্ধবীর মা । আমাকে ভীষণ ভালোবাসতেন । মাসির বাড়িতে আলমারিটা ছিল একটা ছোট খাটো লাইব্রেরি । বাংলা বই এ ঠাসা । কস্তুরী আর আমি একসাথে টিউশন পড়তে যেতাম। যাবার পথে ওকে ডাকতে গিয়ে টুক করে একবার আলমারির সামনে দাঁড়াতাম । কোন বইটা? কোন বইটা? চাইবো?  কোনটা চাইবো? বাড়ি নিয়ে যাবো বইটা? মা আবার বকবে নাতো? মাথায় হাজার প্রশ্ন।
এমনি একদিন মাসি জিজ্ঞেস করলো , "সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'প্রথম আলো' পড়েছিস?" । বললাম , না পড়িনি । মাসি আলমারি থেকে বার করে হাতে দিলো প্রথম আলোর দুটো খন্ড ।প্রচন্ড ভালো লেগেছিলো । যেন মনের একটা জানলা খুলে গেছিলো । তারপর থেকে প্রচুর বই পড়েছি ওই আলমারি থেকে। কিন্তু মনের কোনায় সেই দিন থেকে  "প্রথম আলো" গেঁথে আছে কিছুভাবে । মাসি আজ নেই কিন্তু আমার জীবনে  মাসি আর মাসির বইয়ের আলমারির বিশাল অবদান। বইপোকা!

সময় বদলেছে, আমার জীবন ও হঠাৎ করে একদম বদলে গেছে ।

আজ অনেকদিন বাদে হাতে 'প্রথম আলো ' বইটা তুলে নিয়েছি । কয়েক পাতা পড়েই মন চলে গেলো অতীতে ।বাংলা মিস, জেঠতুতো দিদি আর মাসিকে মনে মনে ধন্যবাদ জানালাম । ভাগ্গিশ আমাকে 'বইপোকা' বানিয়েছিলো।......

জীবনের যে কোনো  সময়ে  বইয়ের মতন ভালো বন্ধু আর হয়না ।

Friday, 21 May 2021

Emoticon জিন্দাবাদ !

 😍😃😎
জীবনের একটা কঠিন সময় তোদের নিয়েই কেটে গেলো এবং যাচ্ছে । 
তোদের  স্রষ্টাকে অনেক ধন্যবাদ।
একটা সময় তোদের কেবল মাত্র মজা করে ব্যবহার করেছি, আজ তোদের ভরসায় দূর থেকে ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, সহায়তা, শক্তি, আরো অনেক কিছু অনুভব করার চেষ্টা করি ।
Real আর virtual এর তুলনা করা উচিত নয় । বন্ধুর গলা জড়িয়ে যে আনন্দ সে কি আর একটা symbol এ পাওয়া যায়? কিন্তু আজকে যখন সবাই দূরে , কারোর সাথে দেখা হওয়ার কোনো উপায় নেই, তখন তোরা  যে কত বড় সম্বল তা বলে বোঝানো মুশকিল  .......
Emoticon জিন্দাবাদ !

🤗 
কাছে নেই জানি, যখন দূরে সকল আপনজন,
উষ্ণ স্পর্শ নিয়ে তুমি হাজির ভার্চুয়াল আলিঙ্গন  .......
সত্যি বলছি  ..Virtual hug 🤗 also works!!
হাত বাড়ানো এই ছোট্ট ইমোটিকন আজকাল অনেক কথা বলে, অনেক স্পর্শ অনুভব করায় । হলোই বা ভার্চুয়াল, মনের অনুভূতিটা তো বয়ে আনে ।

❤️ 
তোমায় ভালোবাসি চাই জানাতে  আমি প্রতিক্ষনে,
তাই পাঠালাম টুকটুকে এক হৃদয় তোমার সনে   ............
হাজার হাজার মাইল দূর থেকে রোজ সকালে নিয়ম করে কিছু হৃদয় আসে - জানান দেয়  আমাকে ভালোবাসে ।কাছে আসার অনেক ইচ্ছে মনের মধ্যে লুকিয়ে রাখতে হয়, খানিকটা অসহায়ই বলতে পারো । তবু ঘুম চোখ খুলেই একটা ❤️ পাঠাতে পারলেও যেন খানিকটা নিশ্চিন্ত । কিছুভাবে যেন কানেক্টেড হতে পারা ।

 😜
সামনে যদি থাকতে তুমি, মাটিতে হেসে গড়াগড়ি,
দূরে বলে ইমোজি দিয়ে সেই ইচ্ছে পূরণ করি.... 
আরে বাবা, এই বাজারে কৌতুকরস 😜অত্যন্ত জরুরি। ইমিউনিটির অব্যর্থ ওষুধ ।
চারিদিকের এই পরিস্থিতে ঠোঁটের কোণে হাসি যেন আর আসেনা । অনেক মজার কথা বলতে ইচ্ছে করে কিন্তু কত আর ফোনে বলা যায়? তবু চেষ্টার ত্রুটি নেই, তাই মজার কথা লিখে সাথে যায় জিভ বার করা এক চোখ বোজা ইমোজি। .
তোমার মুখে হাসি দেখতে চাই ।

😭
পাঠিওনাকো সুদূর থেকে চোখের পাতা ভিজে,
ভালো কিছু স্মরণ করে মুছেই ফেলো নিজে। ..........
নাহ , এইখানা পাঠিয়ে কোনো লাভ নেই । চোখের জল দূর থেকে মোছানো একেবারেই সম্ভব নয়। ওটা নিজেকেই সামলাতে হবে যতদিন না দেখা হচ্ছে।আমার মতে এনাকে বেশি ব্যবহার করে লাভ নেই । 

😃😁😊 এই তিন মূর্তি clear winner !!
এদের সাথেই কঠিন সময়ে ছড়াও অনেক হাসি 
যেখানে থাকো এক নিমেষে জানাও ভালোবাসি। ......... 

#হিজিবিজি 


Tuesday, 11 May 2021

চরৈবেতি

চরৈবেতি ।
শব্দটার সাথে পরিচয় হলো কয়েকদিন আগেই ।এক বন্ধু নিচের ছবিতে (ফেসবুকে) কমেন্ট রেখেছিলো। ..
মানেটা ভালো করে বোঝার জন্য একটু গুগল করলাম। 
(Google ছাড়া জীবনের কোনো উপলব্ধিই আর আজকাল সম্ভব নয় )😀
ভীষণ মনে ধরলো কথাটা।
চরৈবেতি : সামনের দিকে এগিয়ে চলার মন্ত্র ।
Keep walking, Keep walking ..........


चरैवेति…चरैवेति!!!
चरन् वै मधु विन्दति चरन् स्वादुमुदुम्बरम्।
सूर्यस्य पश्य श्रेमाणं यो न तन्द्रयते चरंश्चरैवेति॥ 
(ऐतरेय ब्राम्हण ७.१५)
चलते रहो, चलते रहो…
Keep moving, keep moving…

 

বেদ উপনিষদ গীতা বুঝিনা । তাই এই শ্লোকের বিশ্লেষণ করতে পারবোনা । 
শুধুমাত্র জীবনের কিছু সাধারণ ঘটনা দিয়ে এই অসাধারণ শব্দটাকে  উপলব্ধি করার চেষ্টা করছি।  
খুব  প্রিয় জিনিস হারিয়ে যাবার পরে জীবন যখন থেমে যায় , মনে হয় উঠে দাঁড়ানোর শক্তি বুঝি আর নেই, 
ঠিক তখন ........
একটা শব্দ । 
চরৈবেতি । 
এগিয়ে যাবার শক্তি। মনের মধ্যে গেঁথে গেলো ........

                                 *****

১.

রবিবার ব্রাঞ্চের উপমা ও-ই বানাতো। ঘি মসলা জমিয়ে পড়তো তাতে । তারপর সারাদিন অল্প অল্প করে অনেকবার খেতো ।নীলা বানালেই বলতো, দূর, মসলা আর নুন আরো লাগবে, তবেই স্বাদ খুলবে । কখনো বলতো,  এহ একেবারে বিধবাদের উপমা বানিয়েছিস।
নীলা মুখ গোমড়া করতো ।
*
হালকা সবুজ  রংটা বরাবরই ভালো লাগে নীলার । একটা নতুন ফ্রেশ ফিলিং ।যত্ন করে পাটে পাটে পিন লাগিয়ে পরেছিল সেদিন। ও বললো , 'এখন থেকেই বিধবাদের মতন সাজছিস কেন?" । 
হেসে উঠেছিল নীলা ।
*
আজ রবিবার। নীলা হালকা সবুজ শাড়িটা পরে জমিয়ে উপমা বানিয়েছে । ও নেই তাই কোনো কমেন্টও নেই ।অনেক চেষ্টা করেও মসলা আর নুন মনে হচ্ছে ঠিক দিতে পারেনি। খোলেনি তেমন টেস্ট ।
তবু আজ সারাদিন অল্প অল্প করে অনেকবার খাবে নীলা ।

চরৈবেতি,  শুধু এগিয়ে যাওয়া সামনের দিকে  ...........

২.

ওর  ভালো লাগতো cast Iron এর  ভারী পাত্রটাতে রান্না করতে । প্রোফেসনাল Chef দের মতন। 
শখ করে কিনেছিলো, যত্ন করে ব্যবহার করতো। রান্না হয়ে গেলে আবার ধুয়ে মুছে রাখতো। চট করে অন্য কেউ হাত দেওয়ার সাহস করতোনা ।
নীলার অবশ্য কোনোদিন ভালোও লাগতো না ওই বাসনটা । বড্ড ভারী। 
যদিবা কোনোদিন রান্না করেও ফেলতো, রান্নার পর ধুতে ভীষণ রাগ হতো । গজগজ করতো ।
বলতো , "হাত  ব্যথা করে এইটা ধুতে, কেন যে কিনিস এই ভারী বাসনগুলো".....
ও বলতো, "তোর কব্জিতে কোনো জোর নেই। ভিজিয়ে রেখে দে, আমি পরে ধুয়ে দেব"
অনেক স্মৃতি ওই বাসনটা ঘিরে । স্ট্যু আর ইতালিয়ান রিসোত্তো ওই পাত্রে তৈরী করতো ও। 
উইকেন্ডে রান্নার দায়িত্ব ছিল ওর ।
আজ রবিবার । নীলা আজ ওই পাত্রতে  Stew বানালো ।খাওয়া দাওয়া মিটিয়ে পাত্রটা ধুয়েই রাখলো একবারে।
আজ তেমন ভারী লাগলো না।
মনটা যে আজ অনেক বেশি ভারী।

চরৈবেতি,  শুধু এগিয়ে যাওয়া সামনের দিকে  ........... 

৩.

বাড়ি ঢুকেই  ঘরের লাইট জ্বালাবার আগে ও টিভি অন  করতো । বরাবরের অভ্যেস । 
গত ২০ বছর ধরে দেখছে নীলা। দুনিয়ার নিউস না দেখলে চলতোনা ।
সারাদিন CNN অসহ্য লাগতো নীলার। রেগে মেগে মাঝে মাঝে দুকথা শুনিয়েও দিতো।
"কি যে নিউজ দেখিস সারাদিন যেন সারা জগতের দায়িত্ব তোর!"
"আরে বাবা, TV টা ব্যাকগ্রউন্ড মিউজিকের মতন, চলুক"। 
নীলা বেশি অশান্তি করলে, mute করে দিতো TV টা । মুচকি মুচকি হাসতো কিন্তু টিভি অফ করতো না ।
এখন ও নেই। 
তবু CNN চলে সারাদিন। CNN এর নিউস anchor রা কথা দিয়ে ভরিয়ে রাখে শূন্যস্থান ।
মাঝে মাঝে নীলার ইচ্ছে করে কিছু বলতে, কথাগুলো ঠোঁট অবধি এসেও যায় কিন্তু  ...
ঢোক গিলে কথা বলতে শিখছে নীলা।

চরৈবেতি,  শুধু এগিয়ে যাওয়া সামনের দিকে  ........... 

*****

All characters in this are fictitious. Any resemblance to real persons, living or dead is purely coincidental.

😍


Thursday, 31 December 2020

কুড়ি-কুড়ির বিচার পাঁচালি


০২০: চললাম বুঝলি, সামলে নিস। .....

২০২১: যা বাঁশ দিয়ে যাচ্ছিস, সামলা বললেই কি আর সামলানো যাবে?  

২০২০: আরে বাবা দোষটা তো আমার নয় । করলো কেউ! ভুগছে কেউ! 
লোকজন আমাকে ভাগাবার জন্য এমন উঠে পড়ে লেগেছে যেন এই লাস্ট দিনটাও আর সহ্য করতে পারছে না। আমি যেন একেবারে দু চোখের বিষ হয়ে উঠেছি ।মনটা একেবারে ভেঙে গেছে। কত আশা নিয়ে এসেছিলাম। ২০২০, একটা স্পেশাল নম্বর । একটা  স্পেশাল বছর হবো! তা সব প্ল্যান ভেস্তে দিলো কোরোনা।
 কোরোনার গুষ্টির নিকুচি করেছে! হতভাগা , নচ্ছার !

২০২১: যাগ্গে যাবার বেলায় মন খারাপ করিস না । সব খারাপের মধ্যেও কিছু না কিছু ভালো থাকে। তোর ও আছে।

২০২০: জানি।  তা সেগুলো নিয়ে তোদের ওই হিজিবিজিকে বলনা একটা পাঁচালি  লিখতে। 
...একটু শান্তি মনে হ্যান্ডওভার করে যেতে পারি তাহলে।..

কুড়ি-কুড়ির বিচার পাঁচালি 


পৌষের মৃদু হাওয়া নির্মল আকাশ |
ধীরে ধীরে বহিতেছে মলয় বাতাস ।|
পদ্মে বসে দাবা খেলেন লক্ষীনারায়ণ,
Queens Gambit দেখে ভরেছে যে মন ।।
হেনকালে বীণা হস্তে নারদ মুনিবর ,
আসিলেন লইয়া সাথে মর্তের খবর||
কহিলেন, প্রভু মর্তে সকলে গুনিছে প্রহর,
কতক্ষনে বিদায় হবে কুড়ি-কুড়ির বছর!
মায়া লাগে দেখে তারে, একি অবিচার 
সকলের ঘৃণা দৃষ্টি, যেন সব দোষ তার।
প্রভু আনিলাম বার্তা তার আপনার সনে 
কুড়ি-কুড়ির বিচার হোক বিদায়ের ক্ষনে। ......

"সাজিয়ে স্বপন-ভরা ক্যালেন্ডারের পাতা 
আমিও খুশি মনে খুলেছিনু খাতা।
কোরোনার জ্বালায় বলো আমার কি দোষ,
আমিও ধুচ্ছি হাত, মুখেতে মুখোশ ।
আমাকে জানাতে বিদায় সয়না সবুর,
কিছু শেষ কথা বলে চলে যাবো দূর। ....
কুড়ি-কুড়ি, একসাথে বাড়ি বসে পরিজনে,
কাটিয়েছো সময় কত, এই কথা রেখো মনে !
কুড়ি-কুড়ি, ঘরে থেকে করেছো নিজের কাজ, 
ঝাড়ু পোছা সব কিছু, নেই তাতে কোনো লাজ ।
কুড়ি-কুড়ি, হেথাহোথা যাওনি অযথা ভ্রমণে,
আকাশ হয়েছে নীল, বাতাস ভরেনি দূষণে ।
কুড়ি-কুড়ি, মূল্য বুঝেছো সাধারণ ডালভাতে,
জেনেছো সবার থাকেনা তাও রোজ পাতে। 
কুড়ি-কুড়ি, দূরে থেকেও চেয়েছো আসতে কাছে, 
শিখেছো তারও কত উন্নত উপায় আছে !
কুড়ি-কুড়ি, হারানো শখগুলো ঝেড়েমুছে নতুনে,
কেউ গেয়েছো গান, কেউ রান্না যতনে! 
কুড়ি-কুড়ি, করেছো ক্ষমা, ভুলেছো অনেক দ্বেষ,
জেনেছো অল্পেও খুশি থাকা যায় বেশ ।
কুড়ি-কুড়ি, দিয়েছো সময় নিজেকেও কিছুক্ষন 
দুঃসময়, তবুও কেমন ভালো রেখেছো মন ।
কুড়ি-কুড়ি, মন্দের মাঝে যদি একবারও পড়ে মনে,
একটুকু হাসি রেখো তুলে তুমি মোর সনে ।
কুড়ি-কুড়ি, চললাম তোমাদের সকলকে ছেড়ে 
নতুন আশার সাথে সাজিও কুড়ি-একুশেরে ।"


শুনিয়া অশ্রুজলে ভাসিল দেব নয়ন,
অবিচার সত্যি, কহিলেন নারায়ণ !
কুড়ি-কুড়ি কেটেছে কষ্টে, তবু মোরা ঋণী তার ,
শিখিয়ে দিলো জীবন এক অমূল্য উপহার !

Friday, 27 November 2020

দাম্পত্য কলহ: লেডি, ল্যাডা, লুডো



 

একটা  মস্ত বড় সাদা বাড়িতে 'প্রথম লেডি' আর 'প্রথম ল্যাডা' লুডো খেলছেন। 
খুব জমেছে । কাজের চাপ এমনিতেই কম  ....দাম্পত্য কলহ না লেগে যায়। ..

লেডি  : দুই ছক্কা পাঁচ!  এক দুই তিন চার পাঁচ! আমার নীল গুটি দিয়ে তোমার লাল গুটি খেলাম। 
এবার তুমি ঘরে.  .....

ল্যাডা : মোটেই না, আমার গুটি ওখানে ছিল না। তুমি চিটিং করছো গিন্নি!

লেডি : ইসস, বললেই হলো! আমি বলে কখন থেকে ওই লাল গুটি খাবো বলে বসে আছি !

ল্যাডা : না তুমি গুনতে ভুল করেছো! You tricked me! I want a recount!

লেডি : একদম না, আমি গুনে গুনে দান দিয়েছি ! হার স্বীকার করতেই হবে। ..

ল্যাডা : কখনো না! I am flawless! I will make Ludo a great game again.....

লেডি : আহা  খেলায় হার জিত তো আছেই । sportingly হার মেনে নেওয়াও এক ধরণের জিতের পরিচয়!

ল্যাডা : খেলবোনা! ব্যাস!

[বোর্ড - গুটি তছনছ করে উঠে গেলেন ল্যাডা  । মুখ গোমড়া , ফোঁস ফোঁস ]
[নেপথ্য সঙ্গীত :   Haari baazi ko jeetna Humein aata hain..woh sikandar hi
Doston kehlaata hain......]

TV তে Niden তখন তার টিমের খেলোয়াড় বাছাই করছে । ল্যাডা আড়চোখে সেদিকে তাকিয়ে]

ল্যাডা  :  মেলু, অ মেলু , শুনছো, এ বুড়ো বলে কি! "Diplomacy is back"? তা আমি কি ডিল্পোমাটিক নই গিন্নি?

লেডি  : তুমি? ডিপ্লোমেটিক? এই কথার সত্যি উত্তর দিলে আজ দাম্পত্য কলহ লেগে যাবে! 
কিন্তু আজ আমাকে সত্যি কথা বলতেই হবে ।দাঁড়াও , বুঝিয়ে বলছি।

সেদিন সুন্দর করে মাছের মুড়ো দিয়ে ছ্যাঁচড়া বানালাম , তুমি খেয়ে বললে ,"ওয়াক থু, কি বিটকেল গন্ধ"
ঘরে নতুন পর্দা লাগলাম, দেখে বললে , "UGLY !! এগুলো কি বিছানার চাদর কেটে বানানো?"
নতুন একটা শাড়ি পড়লাম, দেখে আঁতকে উঠে বললে, "ছিঃ কি বাজে  লাগছে, তোমার চেহারায় শাড়ি মানায় না"
চুল সেট করিয়ে এলাম পার্লার থেকে , বললে, "বাইরে কি হারিকেন ? নাকি টাইফুন ? বিচ্ছিরি উস্কখুস্ক চুল"
ছেলেকে বললে "গাধার ছানা" (সেটা না হয় ok )
মেয়েকে বললে "বোকার হদ্দ !তোর দ্বারা কিস্সু হবেনা"
মিডিয়াকে বললে  "ফেক নিউজ " 
কোথাও দেওয়াল তুলে দিলে, কোথাও গ্লোবাল ওয়ার্মিং ধূলিসাৎ করে দিলে।......
এমন বানান ভুল দেশের প্রেসিডেন্ট করে? Covfefe ?
তুমি? ডিপ্লোমেটিক?

এতদিন একসাথে আছি। একটু তো শিখবে আমি কেমন করে গুছিয়ে মিষ্টি হেসে diplomatically কথা বলি ।
" প্রাণনাথ, আরেকটু ভাবো । টুইট করার আগে একটু চিন্তা করো । তুমি এত্ত বড় দেশের প্রেসিডেন্ট , এমনি ছেলেমানুষি করলে চলে? মানুষকে যা খুশি বলার আগে তাদের কথাও  শুনে নাও। মিথ্যে কথা বলা উচিত না । চুলগুলো কেটে ফেললে তোমাকে আরো স্মার্ট দেখাবে ।  ইত্যাদি ইত্যাদি।.."

আমি কি কোনোদিন বলেছি , তুমি একটি আস্ত কুমড়োপটাশ ?
নাও নাও আর গোমড়া মুখ করে বসে থেকোনা । বাড়ি বদলের অনেক কাজ। ...
আলমারির মাথা থেকে সুটকেসগুলো নামাও। .
Stop throwing tantrum(p)s and help me with packing!!

********************************************************************

মা , ওঠো ওঠো, স্কুলের দেরি হয়ে যাচ্ছে যে....
স্বপ্নটা ভেঙে গেলো। কখন অ্যালার্ম বেজেছে শুনতেই পাইনি। ....
বাঙালির গ্যাস অম্বল তো আছেই, সাথে এই স্বপ্ন-রোগটাও বেশ ভয়াবহ!

Friday, 13 November 2020

ভূত কয় প্রকার

pc:whatsapppc:Whatsapp


আসে পাশে তাকিয়ে দেখি ভূত ঘুরছে কত, 
ভাবভঙ্গি যেন ঠিক জ্যান্ত লোকের মতো !
ভূতের নানা প্রকার যদি একটু রাখো জেনে,
হুবুহু চিনে নেবে সব ব্যাকরণ মেনে !
হিজিবিজি ভেবে যদি করেছো অবহেলা,
চতুর্দশীর রাতে দেখবে ভুতুড়ে সব খেলা!


গেছো ভূত গাছের ওপর দিব্য থাকে বসে,
চাঁদের সাথে সেলফি নিতে লাফায় তক্তাপোশে !
মেছো ভূতের আজও ভালো লাগে মাছের মুড়ো,
তার বিশ্বাস চিংড়ি নাকি ইলিশ মাছের খুড়ো!
চোখ পিটপিট হুমদোভূতের কানাভুলো নাম.
মিষ্টি কচি মুন্ডু ভেবে খায় সে কালোজাম  !
মামদোভূতের দশটা আঙ্গুল একএকটা হাতে 
খুশি মনে ভাত মেখে দেয় অন্য সবার পাতে !
স্কন্ধকাটা ভূতের মাথা নেই তাও সে খাটায় ,
লোককে বলে বুদ্ধি থাকে নাকি বুকের পাটায়|
 

ভেংচিকাটা মুখে হাসে সুন্দরী শাঁকচুন্নি,
বাউল গানে ডিস্কো নাচে, বদনাম হয় মুন্নি।..
ডাইনি বুড়ি রাতদুপুরে কলপ লাগায় চুলে, 
দাঁত দুপাটি কিলিপ ভেবে খোঁপায় রাখে তুলে !
ঘেঁটোভূত আর পেটোভূত, তারা ভূত-তুতো ভাই, 
দুজন মিলে একই সাথে জাপ্টে ধরে তাই!
দশাসই ভূত সরল সোজা আছেন ব্রহ্মদত্তি, 
সাঁড়াশি দিয়ে ঘাড় মটকান রাগ নেই এক রত্তি!


এছাড়া আছে,
সাদা ভূত, কালো ভূত, বেঁটে ভূত, মোটা ভূত 
যা চাইবে তাই, 
আসে পাশের ভূত চিনে নাও, ভয় পেও না ভাই। .....


                                                                                                             

 

Saturday, 7 November 2020

কুমড়োপটাশের হিজিবিজি প্রতিক্রিয়া

কুমড়োপটাসের কি রিঅ্যাকশন হবে কেউ জানে না। .
তবে তৈরী থাকা ভালো ।



pc :FriendlyStock.com


(যদি) কুমড়োপটাশ রাগে 
খবরদার এসোনা কাছে, মাথার পোকা জাগে,
চাইবে নাকো ডাইনে বাঁয়ে, চাইবে নাকো আগে, 
বলবে কত বাজে কথা ভেবেই যে ভয় লাগে !

(যদি) কুমড়োপটাশ কাঁদে 
চোখের জল মিথ্যে কেবল, পোড়োনা তার ফাঁদে, 
হাত পা ছুঁড়ে আকাশ বাতাস ভরবে আর্তনাদে  
"দেশ ছেড়ে গিন্নি নিয়ে চলেই যাবো চাঁদে"!

(যদি) কুমড়োপটাশ হাসে 
বুঝবে আঘাত জোর লেগেছে ঠিক হৃদয়ের পাশে,
ধ্যান করবে উপোষ করে অগ্র-হায়ণ মাসে,  
তাতে যদি ভক্ত কিছু আবার ফিরে আসে !

(যদি) কুমড়োপটাশ ডাকে 
তাকিয়োনা সেদিক পানে, বুদ্ধি যদি থাকে। 
মুখোশ পরে ভয় দেখিয়ে ভোলাবে আর কাকে?
ভোট দিয়েছো সঠিক তুমি মাস্ক পরে নাকে !

(যদি) কুমড়োপটাশ ছোটে 
হেরে গিয়ে উল্টো পানে বোমার মতন ফোটে,
আদর করে খেওনা চুমু কমলা গালে ঠোঁটে,
গত চার বছরে কি করেছে ভুলে যেওনা মোটে!

তুচ্ছ ভেবে এসব কথা যদি করেছো অবহেলা,
কুমড়োপটাশ আসবে ফিরে, বুঝবে তখন ঠেলা!
দুলে দুলে পাঁচালিতেও পাবে না তখন পার,
হিজিবিজি তাই সচেতন করছে  বারংবার !



#কবি ক্ষমা কোরো