Friday, 3 April 2026

বাঙালির গ্যাস, মাছ, নির্বাচন

গ্যাস, মাছ, নির্বাচন 

তিনটি বিষয়ই বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় ।
তিনটিতেই বাঙালির প্রচুর জ্ঞান এবং তিনটিকে ঘিরে বাঙালি অত্যন্ত ভাবপ্রবণ।
বাংলায় যাকে বলে "sensitive"!

pc: The Hindu


বাঙালির গ্যাস নিয়ে একটা ইয়ে  .... মানে  ....দুর্বলতা আছে.।সহজেই এই বিষয়ে ইমোশনাল হয়ে যায় । 
একাধারে ভোজন রসিক, অন্যধারে কিছু খেলেই একটা 'গ্যাস হয়ে যাবে'  ভয় - এই  নিয়েই বাঙালির জীবনের অনেকটা সময় কেটে যায় ।

কি কি খেলে গ্যাস হতে পারে সেটা নিয়ে প্রথমে প্রচুর আলোচনা-বিবেচনা  ..
গ্যাস যাতে না হয় তাই খাবার আগেই দুটো Pantec40...
এরপরেও যদি গ্যাস হয়  তাহলে দুটো Gelusil চিবিয়ে জল দিয়ে ...
তাও যদি পেট ঢিস ঢিস করে, তবে এক কাপ উষ্ণ জলে জোয়ানের আরক দুই ঢাকনা ..
সাথে চোয়া ঢেকুর উঠলে, পেটে হালকা করে নারকোল তেল আর জল মালিশ ...
এরপর এক গ্লাস Sprite, ব্যালকনিতে ব্যাজার মুখে কিছুক্ষন পায়চারি,  Charles law-Boyles law মাথায় রেখে গ্যাস নির্গত করা, ইত্যাদি  -- সে এলাহী কারবার - almost a project!
তা সেই বাঙালির গ্যাস এর ঘাটতি - ভাবা যায়?
নো জোকস please - বাঙালির গ্যাস নেই  - this is serious business!


pc:Instagram


এবার আসা যাক মাছ এবং নির্বাচনের ব্যাপারে - equally sensitive, ইফ নট মোর !!
সকাল ৮টায় হাতে থলি নিয়ে বাবু বাজার যান ।এদিক ওদিক একটু ঘুরে সোজা মাছের দোকানে ।

'কি রে টাটকা হবে তো?'
'আজ্ঞে বাবু, এই তো লাফাচ্ছিলো '।
'তা আমাকে দেখে ঝিমিয়ে পড়লো নাকি? আমি মাছ চিনিনা?'
'আজ্ঞে না বাবু, আপনাকে কি আমি আজ অবধি কোনোদিন খারাপ মাছ দিয়েছি? এই পাড়ায় আমাকে থাকতে হবেনা?
'শোন, বাজে না বকে আমাকে ওই এক কিলো কাতলা কেটে দে - দেখি কানকোটা একটু তুলে দেখা, পেটি গাদা মিলিয়ে দিবি' 
'বাবু, আপনার মুড়োটা?'
'অবশ্যই, গিন্নি মুড়িঘন্ট বানাবে যে'
'বাবু , ট্যাংরা একদম ফ্রেশ । অল্প করে দি? কালোজিরে লঙ্কা কাটা ঝোল দারুন লাগবে'
'ওসব ফ্রেশ-ট্রেস আমাকে বোঝাস না - দেখেই বলে দেবো freezer এর মাছ । চিংড়ি কত করে দিছিস?'
'এমনিতে ৯০০, আপনার জন্য ৭৫০!'
'আচ্ছা দে, ওটা এক কিলো দিয়ে দে, বাজারে ভালো কচুর লতি দেখে এলাম'

ব্যাস বাবু খুশ ! এবার বাড়ি গিয়ে চান সেরে, মাছের ঝোল ভাত খেয়ে দুলকি চালে অফিস ।
এহেন মাছ-কাতর বাঙালিকে মাছ খেতে দেবেনা বললে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে না? 

চিন্তার কোনো কারণ নেই, উপায় আছে - নির্বাচন!
... and this time election is 'fishy' business!!

কালো হাত, লাল হাত, নীল হাত ,সবুজ হাত ...ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও - সব রঙের হাতের ব্যাপারেই বাঙালির প্রচুর উত্তেজনা ।তা সে যে রঙের হাতই হোক না কেন, তাতে যদি একটা তাজা মাছ ঝুলিয়ে দেয়া হয়, তাহলে সব সমস্যার সমাধান।
তাই এবারের নির্বাচন প্রচারে মাছ এক অন্যতম মুদ্দা !!
Vote for me, I come with fish! 
উন্নতি-ফুন্নতি, শিক্ষা-ফিক্ষা, নীতি-ফিতি, চাকরি-ফাকরি পরে দেখা যাবে ....
(হায় রে বাঙালি - এই রাজ্যের কেউ একদিন বলেছিলো give me blood, I will give you freedom)

😎
এই সূত্রে হিজিবিজি-পাঁচালি-কবির পুরোনো কয়েকটা লাইন মনে পড়ে গেলো :
[পাঠকদের কাছে অনুরোধ লক্ষী পাঁচালির মতন দুলে দুলে সুর করে পড়ুন...]

গ্রীষ্মের ঘেমো হাওয়া নির্মল আকাশ,
থমকিয়া দাঁড়াইয়া ভোটের বাতাস ।
মর্তে বসে নরনারী গোনে দিন ক্ষণ,
হইতেছে চিন্তা কে পাইবে সিংহাসন !
হাত-পদ্ম-তৃণ-কাস্তে কিসে পড়িবে ছাপ,
ভাবিয়া ইহা বাড়ে মানসিক চাপ !
হেনকালে বীনাহস্তে নারদ মুনিবর,
আসিলেন লইয়া সাথে মর্তের খবর !
কহিলেন, প্রভু মর্তে দেখি ঘোর কলি,
কাহারে ছাড়িয়া আমি কার কথা বলি !
সৃষ্টি করিলেন যাদের করিয়া  যতন,
নির্বাচনকালে তাদের অধঃপতন!
ধর্ম-টর্ম জাত-পাত অযথা তুলিয়া,
হিংসায় ভরিছে মন, ভালোবাসা ভুলিয়া।
নারদের বাক্য শুনি, লক্ষীঠাকুরানী,
সঘনে নিশ্বাস ত্যাজি কহে মৃদুবানী।
মুনিবর, শুনিলাম মর্তের  বিবরণ,
গদি ও ক্ষমতার লোভে মগ্ন সর্বজন !    (innocent  rhyming, no sarcasm )
জনতারে দিয়েছিলাম বুদ্ধি অনেক,
ভালোমন্দ করিতে বিচার, ভাবিয়া ক্ষণেক!
নিজ বুদ্ধি স্বেচ্ছায় রাখে যে তুলিয়া,
কপট নেতার কথায় যায় সব ভুলিয়া !
তাই,
Strategy বদলাইয়া এবার দেবদেবীগণ,
Chill থাকিব মোরা  করিয়াছি পণ !!
বাড়াবো না BP আর শুধু শুধু রোষে,
ভুগিবে মর্তবাসী নিজ কর্মদোষে !
যদি বুদ্ধি বিবেক দিয়া না করে নির্বাচন 
আনিবে ডাকিয়া তারা নিজের পতন ........
ভোট ব্রতকথা আজ হলো সমাপন,
May the best win and get the সিংহাসন!


Thursday, 19 March 2026

'Let us make the Earth great again' পাঁচালি

যবে থেকে পাঁচালি লেখা এবং পড়া বন্ধ করেছি, দুনিয়ায় কেবল  অশান্তি।
ভক্তগণ , এখনো সময় আছে দুলে দুলে পাঁচালি পড়ো, শান্তি নিয়ে এসো  ........
[Prayer :'Let us make the Earth great again' ]

pc: independent.co.uk

{ পাঠকের কাছে অনুরোধ দুলে দুলে পড়ুন }


বসন্তের মৃদু হাওয়া নির্মল আকাশ |
ধীরে ধীরে বহিতেছে মলয় বাতাস ।|
পদ্মে বসে চিন্তিত মুখ লক্ষীনারায়ণ,
মর্তের চিন্তায় তাঁদের হোল ভ্রুকুঞ্চন| ।।
নারায়ণ কন, প্রিয়ে দেখে লাগে ভয়,
মর্তের বুকে আজ না জানি কি হয়।।
'শান্তি চাই শান্তি চাই' কান ঝালাপালা,
বেশ তো ছিলাম, হলো একি জ্বালা !
বলিলেন মা লক্ষী হাতপাখা রেখে, 
"কিছু করো প্রাণনাথ, দেবো diet-সিন্নি মেখে"

হেনকালে বীণা হস্তে নারদ মুনিবর ,
আসিলেন লইয়া সাথে মর্তের খবর||
কহিলেন প্রভু মর্তের কি করিবো বর্ণন 
যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলায় পাগল করিছে নাচন ।।
নরনারী ভয়ে ভয়ে গোনে দিনক্ষণ,
অহেতুক চারিপাশে বোমা বরিষণ ।
প্রভু, ছোট মুখে বড় কথা বলিতেই হয়,
সৃষ্টি করেছেন এ মানব বদ অতিশয় ।।
কি করিয়া বানাইলেন এমন এক পিস্ 
ফর্মুলা ভুল নাকি গণনাতে মিস?
কমলা মুখের রং, বাহারিয়া কেশ,
এ দানব, প্রভু সব করিতেছে শেষ ।
বড় কষ্টে মর্তবাসী, ত্রাহি ত্রাহি রব,
তেল নেই গ্যাস নেই, কি করিবে সব?
কি করে থামিবে পাগল, বলুন উপায়,
ভক্তেরা বড় ক্লেশে দেখে এনু হায় ।
এহেন মানবেরে বসায়ে সিংহাসনে 
আপনারা দেবদেবী শান্ত কেমনে?
প্রভু এরে দয়া করে দিন নির্বাসন,
ভক্তেরাও সিন্নি দিয়া করিবে পূজন। 

ধ্যান মগ্ন প্রভু,  চক্র বনবন ঘোরে,
পাশে দেব দেবীগণ বসে করজোড়ে ।
"ফিরে যাও মুনিবর, বলো ভক্তগনে,
আসিতেছি আমি মর্তে তাদের রক্ষণে ।
Hormuz এ কাল আমি করিব অবতরণ,
পাগলের ভাষাতেই হবে আলোচন  |
...this is going to hit him hard, very hard,
Believe me, I have the final Trump card!!
I will bring peace, I will end pain
Let us make the Earth great again............."
😆😁

Saturday, 16 November 2024

স্বপ্ন, পোলাও, ঘি ......ভালোবাসা

অভিজিৎ এর মা বলতেন. .....স্বপ্নেই যদি পোলাও খাবো তবে ঘি কম ঢালবো কেন? 
কথাটা আমার খুব ভালো লাগে |  একটা অদ্ভুত পজিটিভিটি আছে কথাটাতে। একটা সীমাহীন স্বপ্ন দেখার উৎসাহ ।
জীবনে অনেক কিছুই তো ইচ্ছে থাকে, সব হয়ে ওঠেনা। কিন্তু তাই বলে তো আর স্বপ্ন দেখা বন্ধ করা যাবে না! 
আর যদি স্বপ্নই দেখবো তবে কম দেখবো কেন? সীমাহীন স্বপ্ন দেখবো ।
মন নেচে উঠবে আনন্দে। হোক না স্বপ্ন ......আজকের স্বপ্ন দেখাটা তো আমার হাতে ।
 .....কাল কি হবে আমরা কেউ জানিনা । 
বাংলায় যাকে বলে, " কাল হো ন হো "
😊

মা এই দামি কথাটা যেন আমার জন্য রেখে গেছেন । আমি প্রচুর লোকজনকে এই কথাটা বলি ।যতবার বলি, একটা অদ্ভুত শক্তি পাই । আরও এক ধাপ সামনের দিকে এগোতে পারি । 
নতুন করে ভালো কথা ভাবতে ইচ্ছে করে। ভবিষতের প্ল্যানিং করতে সাহস পাই । 
আজকাল তো আমার নন-ইন্ডিয়ান বন্ধুদেরও ট্রান্সলেট করে বলছি।
 'পোলাও' এর জায়গায় 'বিরিয়ানি' বলে দেখছি ব্যাপারটা বেশি effective হচ্ছে । Youtube এ  ঘি আর বিরিয়ানির ছবি দেখিয়ে বোঝাবার চেষ্টাও করছি। অনেকেই বলছে , 'oh how philosphical!'
ফিলোসফি, স্পিরিচুয়ালিজম, লাইফ লেসন, পসিটিভিটি, অপ্টিমিসম  - মিলিয়ে সত্যি মন ভালো করা একটা কথা!
If you are having Biryani in your dreams, why put less ghee? [direct translation]

তাই বন্ধুগণ , স্বপ্ন আছে, পোলাও (বিরিয়ানি) আছে, ঘিও আছে !  ঢালো আর খাও   ......
😀

এবার গল্পে আসি। 
কাজের সূত্রে বেঙ্গালুরু যেতে হয় আজকাল। হোটেল এ থাকি -আহা রকমারি খাবার দাবার - মন ভালো হয়ে যায় ।
একই হোটেলে প্রত্যেকবার থাকি বলে একটা চেনাশোনা ব্যাপার হয়ে গেছে। যেহেতু আমি একটু  ..ইয়ে  ... মানে  ....ইয়ে খাদ্যরসিক  .. ফলে ওখানের Chef এর সাথে রোজ ব্রেকফাস্ট এ ভালো গল্পও হয় । 
একদিন দেখি সকালবেলা মেনুতে  "নিহারী-শিরমাল"।




খুব সুন্দর দেখতে, লোভ হলো কিন্তু ভাবলাম এমনি ব্রেকফাস্ট করে কি আর কাজে যাওয়া যায়? 
নাহ থাক - ইডলি, দোসা নিয়ে গুটি গুটি এসে বসলাম টেবিলে । 
হঠাৎ Chef Khan হাজির ।
Chef : ম্যাডাম, প্লিজ নিহারী-শিরমাল ট্রাই করকে দেখিয়ে - বহুত আচ্ছা লাগেগা।..
আমি:  আরে নানা, সুবাহ সুবাহ ইতনা খানা মুশকিল হ্যায় - কাম পে জানা হ্যায়। ..
আমার সমস্ত আপত্তি ধূলিসাৎ করে Chef Khan আমাকে এক প্লেট নিহারী-শিরমাল দিয়ে গেলেন । আমার ততক্ষনে পেট ভরে গেছে তাই ভাবলাম শুধুমাত্র ওনার মন রাখার জন্য  ...এক টুকরো শিরমাল এক চামচ নিহারীর সাথে খাবো - Not a bite more!
কিন্তু যেই না মুখে দিয়েছি  ... ব্যাস  ..... সমস্ত আত্মসংযম ভেঙে গুঁড়িয়ে তছনছ হয়ে গেলো  !!!
এক প্লেট নিহারী-শিরমাল মুহূর্তের মধ্যে ভ্যানিশ!!
Chef Khan কখন এসে টেবিলের পাশে দাঁড়িয়েছেন লক্ষ্য করিনি।
মুখে একটা স্মিত হাসি  - চোখে যেন  "কি বলেছিলাম? " চাউনি ।
এক গাল লজ্জিত হাসি হেসে বললাম  - দারুন খেলাম শেফ , এতে কি মসলা দেওয়া হয়েছে? আমাকে এক চামচ মসলা দিতে পারেন? একটু হাতে নিয়ে দেখতে চাই। ..
খুব খুশি হলেন। বললেন , 'ইয়ে মাসালা লাখনৌ সে মঙ্গাতে হ্যায়  ....জরুর দেঙ্গে '
আমিও বেশ একটা নবাবী মেজাজ এ অফিসের দিকে রওনা দিলাম। 

কাজের চাপে তারপরের কয়েকটা দিন একেবারে. ...একেবারে...একেবারে ল্যাজে গোবরে অবস্থা! 
অফিস-হোটেল, হোটেল-অফিস ।
দেখতে দেখতে ফেরার দিন এসে গেলো । সকালে checkout করে, সুটকেস-ব্যাগ রিসেপশন এ জমা রেখে অফিস গেলাম। বিকেলে ফ্লাইট , ফিরে লাগেজ নিয়ে এয়ারপোর্ট চলে যাবো।
বিকেলে এসে লাগেজ নিতে গিয়ে দেখি সুটকেসের ওপর এলুমিনিয়াম ফয়েল এ মোড়া Chef  Khan এর গিফট ।
আমার জন্য যত্ন সহকারে নিহারী মসলা প্যাক করে রেখে গেছেন তিনি  ।

মন ভরে গেলো - ভালোবাসায় । Food is such a wonderful connector!
এখনো বানানো হয়নি, তবে বানাবো । 
সুদূর নেদারল্যান্ড এ বসে লখনৌই মসলায় নিহারী জমে যাবে মনে হয় ।
পরিমান মতন ঘি ও ঢালবো ।
😊




Wednesday, 20 September 2023

মধুচন্দ্রিমা ট্রাভেলস - included in the package


https://www.esa.int/Enabling_Support/Operations/India_s_Chandrayaan-3_successfully_lands_on_the_Moon


অফিস থেকে ফিরছিলাম ।
 "মধুচন্দ্রিমা ট্রাভেলস" বুকিং অফিসের বাইরে বাস স্ট্যান্ড এ দাঁড়িয়ে, হঠাৎ কানে এলো.....

A ::  আচ্ছা দাদা, আপনিও কি "চন্দ্রিমা" প্যাকেজ?

B ::  অবশ্যই ! এখন থেকে বুকিং না করলে সেই ওয়েটিং লিস্ট!  আমাদের যা হয়েছে হোক, সারা জীবন কেটে গেলো ওয়েটিং লিস্টে । ছেলেটাকে যাতে একটা ভালো ভবিষৎ দিতে পারি ....


A  :: আমাদেরও একই  গল্প। গিন্নি জোর করে পাঠালো। দশটা না, পাঁচটা না, একটা মাত্র মেয়ে । আজ বাদে কাল বড় হবে, বিয়ে দেবো , তখন গিন্নির 
ইচ্ছে মেয়ে জামাইকে একটা "চন্দ্রে মধুচন্দ্রিমা" গিফট করবেন।
কিন্তু কি লাইন দেখলেন? ভোর ৪ থেকে ইঁট পেতে লাইন দিয়েছিলাম । .....

B  : সেই, এ ছাড়া তো গতিও নেই । পৃথিবীতে কি আর মধুচন্দ্রিমার জায়গা খালি  আছে বলুন? এখনই যা অবস্থা, ছেলেমেয়েগুলোর বিয়ে হতে হতে . ....


A ::  যা বলেছেন দাদা! পরিবেশ দূষণের ঠেলায় নিশ্বাস নিতে পারছিনা! 


B :: তা বটে তবে ওখানেও তো অক্সিজেন নেই ...


A ::  আরে বাবা, আজ নেই, কাল কিছু না কিছু বন্দোবস্ত হবেই ! কয়েক বছর আগে কি চাঁদে যাবার চন্দ্রযান ছিল? 
বৈজ্ঞানিকরা তো এমনি এমনি দিন রাত এক করে কাজ করছেন না !  একটু পসিটিভ ভাবুন  .......
"মধুচন্দ্রিমা ট্রাভেলস" প্রমিস করেছে কলকাতা থেকে দিনে মিনিমাম দুটো করে চন্দ্রযান ছাড়বে! রাস্তায় জলখাবার included in the package ! খাস্তা কচুরি আর জিলিপি ।

B ::  বাবা তো, চিন্তা হয়। জানি ওখানে জল ও নেই। ...


A  ::  তা এখানে কোনসা আছে?  চারিদিকে খাবার জলের অভাব ! নেতারা কেবল কথা বলে চলেছে, কাজের বেলায় লবডঙ্কা! গঙ্গার অবস্থা দেখেছেন?

"মধুচন্দ্রিমা ট্রাভেলস" আশ্বাস দিয়েছে , চাঁদে এমন একটা ট্যাবলেট পাওয়া যাবে  যেটা খেলে আর জল খেতেই  হবেনা ১০ দিন।
ওটা 
 included in the package !

B ::  একটাই চিন্তা, চাঁদে wifi টা  .......

মেয়ে Status আপডেট দিতে পারবে তো? "honeymooning on the moon"? নয়তো গিন্নির এই উপহার একেবারে বৃথা যাবে। বন্ধু মহলে মুখে দেখাতে পারবেনা। ...
বাবা মা হওয়ার বড় চিন্তা , সব রকম ভাবতে হয়।

A :: আরে মশাই, আপনি শুধু শুধু চিন্তা করছেন!  Jio পৃথিবীতে এখনই দিনে 5 GB data pack দিচ্ছে। 
"মধুচন্দ্রিমা ট্রাভেলস" ভরসা দিয়েছে যে চাঁদে wifi তখন আর লাগবেনা । তখন সব কিছু Advanced Progressive Generative Modular Agile সবজান্তা AI....না কি একটা যেন হয়ে যাবে  ...সেটা ওই "চন্দ্রিমা"..  included in the package!

তা আপনার ছেলের কত বয়স?

B  :: এই দুই এ পা দিলো।....তবে দেখতে দেখতে সময় কেটে যাবে।...Time flies . 
আপনার মেয়ে?

A :: না মানে... আমার গিন্নির ওই আগামী মাসের ২৪ তারিখ ডেলিভারি ডেট  ......
চন্দ্রযান এর মহিলা বৈজ্ঞানিকদের কথা জানার পর আমাদের দুজনেরই ইচ্ছে মেয়ে হোক! 

[বাস এসে গেলো,  উঠে পড়লাম, বাকিটা আর শোনা হলো না ]
....to be continued......

Saturday, 12 August 2023

আমি সুরে সুরে ওগো তোমায় ছুঁয়ে যাই



খুব যত্ন করে হরিভাউ বানিয়েছেন আমাকে। উনি থাকতেন মুম্বাই এ, হয়তো এখনো আছেন । হরিভাউ স্বপনে জাগরণে শুধু গান বাজনা ভাবতেন - ওনার বানানো তানপুরা, সেতার , গিটার দেশের এবং বিদেশের নানা কোণে ছড়ানো । আমি তাদেরই মধ্যে একজন।
আমি তানপুরা ........ 

একদিন দোকান এ বসে হরিভাউ ফোনে কারুর সাথে কথা বলছিলেন । ফোন রেখে উনি আমার কাছে এসে দাঁড়ালেন - একবার বাজালেন-  আমার চারটে তার এক সুরে বেজে উঠলো - কেন জানি না আমার অজান্তেই বাজলো বিদায়ের সুর|বুঝলাম এবার যেতে হবে । অন্যান্য কিছু বন্ধু বান্ধবের সাথে পাড়ি দিলাম সাত সমুদ্র পেরিয়ে একটা ছোট্ট দেশে- ওলন্দাজদের দেশ ।
হল্যান্ড ।

এসে নামলাম Rotterdam এ - সেখান থেকে সোজা সামসুদ্দিন ভাইয়ের দোকানে । সারা রাস্তা জানলা দিয়ে বাইরে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকলাম- কি সুন্দর এই দেশ । মনে মনে ভাবলাম কি জানি এরা কেমন মানুষ ! আবার ভাবলাম যেমনই হোক না কেন, আমি আমার সুরে সুরে দেশটা ভরিয়ে দেবো । আমার সহযাত্রী দুই সেতার ও এক সরোদ ও নিশ্চয় তাই ভাবছিলো - সবাই জানলার দিকে তাকিয়ে একটু যেন আনমনা। আসলে বিদেশের মাটিতে জীবন কেমন কাটবে- মাথার মধ্যে অনেক চিন্তা  .....
পরেরদিন সকালেই সামসুদ্দিন ভাই আমাদের ঝেড়ে মুছে সাজিয়ে দিলেন ওনার দোকানে । এবং তার ঘন্টা খানেকের মধ্যেই দোকান এ দুই ডাচ মহিলার আগমন । কি যে দুজনে খসখস ঘষঘষ করে বললেন সামসুদ্দিন ভাইকে  (অবাক হয়ে শুনলাম এদের ভাষা, কিছু বুঝলাম না। এখন কিন্তু আমি ভাষাটা পুরো বুঝি 😊)
উনি আঙ্গুল তুলে আমার দিকে দেখালেন ।
দুজন কাছে এসে দাঁড়াতেই কি যে হলো আমার- যেন মনে হলো আমি এদের জন্যই তৈরী হয়েছি । কি শান্ত হাসি দুজনের মুখে । আমাকে দেখে ছোট শিশুর মতন চোখে আনন্দ । আবার নিজেদের মধ্যে সেই খসখস ঘষঘষ ভাষায় কিছু বলাবলি হলো ।

একজন এগিয়ে এসে আমার তারে হাত দিলেন। 
আমি উত্তর দিলাম  ....সা ....
উনি ওনার বান্ধবীর দিকে তাকিয়ে হেসে ইশারা করে বললেন কিছু বাজাতে, দ্বিতীয় মহিলা ও এসে ছুঁলেন আমাকে।
আমি বললাম   ..... পা  ......সা  ......
অনেক প্রশ্ন , আমার এক উত্তর   ...পা ...সা.....সা .....
চোখ মুখ এবং কথা বলার আনন্দ দেখে বুঝলাম খুব পছন্দ হয়েছে আমাকে । 

ফেলিন আর মিরা । ভালোবাসায় ভরা সংসার দুই বান্ধবীর ।
বাড়িতে নিজেরা Yoga ক্লাস করে। সেই ক্লাসে তানপুরা বাজাতে চায়, আমাকে সযত্নে নিয়ে এলো বাড়ি । আমার যে কি ভালো লাগতে শুরু করলো - রোজ সকাল এ ক্লাস হয়, আমাকে ঘিরেও নানা কৌতূহল, মন প্রাণ ঢেলে সুরের ঢেউ তুলতে লাগলাম। ওদের হাসি কান্না ভালোবাসা -সব মিলিয়ে জীবন চললো । কেটে গেলো ১০ বছর ।

ফেলিন আজ নেই । ওর অনন্ত শেষ যাত্রাতে আমি মন প্রাণ উজাড় করে বিদায় জানিয়েছিলাম।
 .. সা... .... পা   .....  সা ....
মিরা মুভ  করছে একটা ছোট এপার্টমেন্ট এ- সেখানে সব জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বয়স ও হয়ে গেছে, আমাকে বাজাতে চাইলেও হাতের ব্যথার জন্য বাজাতে পারেনা - arthritic wrist  খুব বেদনাদায়ক। 
শুনলাম বন্ধুকে বলছে ফোনে, কাউকে চেনো যে তানপুরা বাজাতে ইচ্ছুক? আমি বিক্রি করতে চাইনা কিন্তু এমন কাউকে দিতে চাই যে আমার আর ফেলিনের এই প্রিয় বাদ্যযন্ত্রটা ভালোবেসে বাজাবে ।

দুদিন পরেই বন্ধু হাজির।কাউকে বুঝি পাওয়া গেছে ।
 বেরিয়ে পড়লাম আমার নতুন বাড়ির উদ্দেশ্যে ।

 " D "  
আমাকে হাতে পেয়ে চোখে মুখে ঝকঝকে উত্তেজনা । এক দেখাতেই বাড়িটা আর D কে আমার বেশ ভালো লাগলো । তবে বাজানো দেখেই বুঝতে পারলাম বহু বছর পর তানপুরাতে হাত দিচ্ছে । কিন্তু ছোঁয়ার মধ্যে একটা অদ্ভুত ভালোবাসা অনুভব করলাম - কেমন জানি আমাদের একটা কানেক্ট হয়ে গেলো - যেন এই বাড়িতে আসাটা আমার ভাগ্যে লেখা ছিলো । নয়তো কোথায় হরিভাউ, কোথায় সামসুদ্দিন ভাই, কোথায় ফেলিন , কোথায় D - 
আমরা কেমন করে এক তারে বাঁধা!

রোজ সকাল এ ঘুম থেকে উঠেই আমার তারে একটা ঝংকার দিয়ে তারপর D চায়ের জল বসায় । ঠিক যেন আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলার জন্য একটা ঠেলা । তারপর সারাদিন নানা কাজে ব্যাস্ত থাকে ঠিকই তবে আমার প্রতি ভালোবাসাটা আমি স্পষ্ট অনুভব করি । অনেকদিন বাদে আবার গান শিখছে - গলা কাঁপে কিন্তু প্রচুর শক্তি পায় সুরের মাধ্যমে । রেওয়াজ করবো ভেবেও রোজ বসা হয়ে ওঠে না - একটু ফাঁকিবাজ ও আছে ।আমি কিছু বলিনা - তবে মুচকি মুচকি হাসি । আমাদের একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক হয়ে গেছে , অনেক মনের প্রাণের কথা হয় আমাদের ।
আমিও মনপ্রাণ দিয়ে সুরের শক্তি উজাড় করে দি D কে।
 .. সা... .... পা   .....  সা ....
 রাগ ইমন, ভৈরব, কাফি, খাম্বাজ এসেছে আমাদের জীবনে  - দুজন মেতে উঠেছি সুরে সুরে। ....

এরপর যেটা হলো সেটা একটা স্বপ্নের মতন । 
সকাল সন্ধে শুরু হলো এক আলোচনা - কৌশিকী চক্রবর্তী নাকি আসবেন  নেদারল্যান্ডস - Cheerful Child এর fundraiser - সেই টাকা দিয়ে বাচ্চাদের স্কুল তৈরী হবে। আলোচনা যত বাড়তে লাগলো তত বাড়তে লাগলো উত্তেজনা । D  যেন যুদ্ধে যাচ্ছে এমনি একটা ভাব । সারাক্ষন Youtube এ কৌশিকীর গান বাজছে বাড়িতে - ভুরু কুঁচকে নানা হিসেবে নিকেশ করছে কম্পিউটার খুলে - ফোনে নানা আলোচনা , প্লেনের টিকিট, কার গাড়ি যাবে,  স্টেজ কে সাজাবে, ডিনার এ কি খাওয়ানো হবে  - সে হৈ হৈ রৈ রৈ ব্যাপার ।আমি তো চুপচাপ সব শুনছি আর ভাবছি  ...... 
D -র পাগলামির কি শেষ নেই  !!
হঠাৎ একদিন শুনি D ফোনে কৌশিকীর সাথেই কথা বলছে  -
"আমার একটা তানপুরা আছে - তবে জানি না সেটা তোমার ঠিক লাগবে কিনা, এটা G # এ বাঁধা"

ব্যাস, আমার তো ঘুম গেলো উড়ে । সারা দিন রাত স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম যে স্টেজে আমি কৌশিকীর সাথে সুর মেলাচ্ছি ।
মন থেকে কিছু চাইলে শুনেছিলাম সেটা  সত্যি হয় - the universe makes it happen. আমার জীবনেও ঠিক সেমনি কিছু হলো. 
৩০ জুন : কৌশিকী নিজে হাতে আমাকে নতুন তারে বাঁধলো - ঠিক যেন নতুন জীবনের শুরু ।
প্রত্যেকটা ঝংকারে আমি উজরে দিলাম আমার মনের কথা, ধন্যবাদ জানালাম ঈশ্বরকে যিনি আমাকে এমনি সুযোগ দিয়েছেন - জগতে সুর ভরিয়ে দেওয়ার।

ছবিটা দেখো। বাঁদিক থেকে দ্বিতীয় - আমি !!
😊

এরপর জীবন কোথায় নিয়ে যাবে জানিনা - তবে D র কাছে থাকতে চাই সবসময় ।
ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি যেন যেখানেই থাকি, সুরে থাকতে পারি ।

আমি সুরে সুরে ওগো তোমায় ছুঁয়ে যাই. 
নাই বা পেলাম দরশ তোমার, গানে গানে যেন তোমায় পাই। ......

30th June - "Blessings " concert  Amsterdam 


ps :অনেকটা  সত্যি, কিছুটা কাল্পনিক 

Monday, 19 December 2022

Adios ....till 2026

 



ফুটবলে "গোল" ছাড়া কিছুই বুঝিনা !
ফ্রি কিক আর পেনাল্টিটা তবু অল্প রপ্ত করেছি ।
তবে অফসাইডটা আর ইহজীবনে বোঝা হয়ে উঠলো না ।


"আচ্ছা বলটা কি পেছনে থাকতে হবে?"
-নানা, অফসাইড হচ্ছে যখন প্লেয়ার অপোনেন্ট প্লেয়ার এর গোল লাইন থেকে   ...ইত্যাদি। ইত্যাদি।...!
"তাহলে কি প্লেয়ারকে পেছনে থাকতে হবে?"
-নানা, অফসাইড হচ্ছে যখন প্লেয়ার এর লাইন   ... ..ইত্যাদি।..
"আচ্ছা এতো ভালো গোলটা কেন ক্যানসেল হলো?"
-অফসাইড হলো তো!
"আচ্ছা এটা  কি অফসাইড?"
-না


লক্ষ্য করলাম উত্তর সংক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। প্রথমদিকে বোঝাবার চেষ্টা, পরের দিকে হাল ছেড়ে দেওয়া!
সে যাগ্গে ফুটবলের technicalities  ......
প্রায় দুবছর বাদে আবার কিছু হিজিবিজি লিখতে পেরেই আমি খুশি ।

বন্ধুদের জানাই অনেক ধন্যবাদ।
তোমরা পড়লে, বাহবা দিলে  .....
ধন্যবাদ হিজিবিজিকে - অনেক মজার মধ্যেও অনেক সাহস, অনেক শক্তি!
Thank you all...

কাল কান পেতে শুনলাম World Cup কি বলে........

বসে ছিলাম একটি মাস, অসীম ধৈর্য ধরে,
কে জিতবে আমায়, কেগো নেবে আপন করে !
কান্না হাসি উত্তেজনায়, ভরিয়ে সবার মন,
ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ আটকে অনুক্ষণ!
খেলার মতন খেলা হলো, হে হারে কে জেতে,
ছুটলো সবাই বলের সাথে, উঠলো জগত মেতে!
মাতলাম আমি মেসির হাতে, জিতের উন্মাদনা,
বইলাম আমি ফরাসি চোখে হয়ে অশ্রুকণা !

সবার চাইতে বড় হলো খেলার মাঠে খেলা,
হারজিত তো আছেই লেগে, কাপ মেডেলের মেলা!
কেউ জিতবে, কেউ বা যাবে ভালো খেলেও হেরে,
কেউবা আবার হেরেও নেবে সকলের মন কেড়ে!
কান্না হাসি পাশাপাশি, তবেই জীবন চলে,
হারকে যে নেয় আলিঙ্গনে, তাকেই জয়ী বলে।

স্বপ্ন নতুন উঠবে সেজে কত আমায়  ঘিরে,
কান্না হাসির লোভে আবার আসবো আমি ফিরে!
দিন গোনা আজ শুরু হলো, আবার নামবো মাঠে,
হাসবো কাঁদবো খেলবো আবার হিজিবিজির পাঠে!

Sunday, 4 December 2022

....কুছ ভি হো সক্তা হায়



আজ রবিবার 
আগামী চারটে দিন খুব ক্রিটিকাল - লাইফ মে কুছ ভি হো সক্তা হায়  .......
কিছু হিজিবিজি বিধিবিধান দিয়ে রাখলাম ...
Till Friday : May the best team win.

কাল সোমবার 
সকালে উঠিয়া, উত্তরে দুই ঘটি জল,
দুপুরে নিরামিষ, সাথে হরিতকি ফল,
বৈকালে প্রার্থনা, ধুপ ধুনো সাথে, 
রাত্তিরে মাখিবে সাবু নিজ হাতে ।

পরশু মঙ্গলবার 
সকালে উঠিয়া চিবায়ে তুলসীর পাতা, 
দুপুরে খিচুড়িভোগ গুনে দুই হাতা, 
বৈকালে হাঁটু মুড়ে করিবে যোগাসন,
রাত্তিরে গীতা পাঠ দিয়া প্রাণমন ।

তরশু বুধবার  
সকালে উঠিয়া কাচা গেরুয়া পরনে 
আমলকি ছেঁচে খাবে প্রতি দুইক্ষনে, 
বৈকালে গামছা পরে দেবে জলে ডুব 
ভজন গাইয়া মাথা ঝাঁকাইবে খুব ।

ঘরশু বিশুতবার 
সকালে উঠিয়া জলে ছাতু খাবে গুলে,
পাঁচালি পড়িবে সবে শুধু দুলে দুলে,
বৈকালে এক ঘটি বানাইবে ঘোল,
নেচে নেচে বলিবে বল হরি বোল !

এ প্রথা মানিয়া যে দল করিবে পালন,
গোলদেবীর কৃপাদৃষ্টি পাইবে অনুক্ষণ !
পেনাল্টি, কর্নার,  সব যদি চাও,
বিধি মেনে আজ থেকে সব করে যাও। ..
শুক্কুরে কিবা হবে, ভেবে দিশেহারা,
মেসি আর ভার্জিলে কাঁপাইবে পাড়া  ...............