Tuesday, 16 June 2020

হ্যাপি বার্থডে

মন বলে, সত্যি বুঝি,
নাকি আমার  ভুল?
মাথা বলে, সত্যি, নাতো 
পাকছে কেন চুল?

মন বলে, বলিস কিরে
গড়ালো এতো জল ?
মাথা বলে, তাইতো কেমন 
হাঁটু ব্যথা বল!

মন বলে, দুত্তারিকা
এখনো প্রেম জাগে,
মাথা বলে চশমা ছাড়া
ঝাপসা কেন লাগে?

মন বলে, বিশ্বাস কর
এখনো উঠি নেচে,
মাথা বলে, ভীমরতি
বিপদ ডাকিস যেচে।..

মন বলে, তর্ক বৃথা
করিনা কাউকে ভয়,
মাথা বলে, এই বয়সে
অমন একটু হয় !

মন বলে, নিজেকে খুশি
রাখতে যদি পারি,
মাথা বলে, উপায় বল
শিখবো তাড়াতাড়ি !

মন বলে, দুইখানা গ্লাস 
দৌড়ে দেখি আন,
মাথা বলে, তোর জুড়ি নাই
হ্যাপি বার্থডে মেরি জান !

Cheers!!!






Tuesday, 2 June 2020

মুড়ির প্রত্যাবর্তন



I am a global citizen, no doubt.
কিন্তু আমি ঘটি।😀
শুধু তাই নয়, আমি হার্ড -কোর বাঁকড়ি। অর্থাৎ মুড়ি এবং পোস্ত আমার রক্তে আছে । সামনে বিরিয়ানি আর পোস্ত রেখে বাছাই  করতে বললে, আমি চোখ বুজে পোস্তর দিকে হাত বাড়াবো।
গরম ভাত. পোস্ত বাটা, সর্ষের তেল, নুন, কাঁচা লঙ্কা! ব্যাস. .......
চোখ বুজে Nirvana !

তা এহেন গ্লোবাল বাঁকড়ির জীবনে মুড়ি ফিরে এলো লকডাউনের বাজারে।With a bang!
মুড়ির প্রত্যাবর্তন !
মুড়ি যে আমার বরাবর অত্যন্ত প্রিয় ছিল ঠিক তা নয় । বরং ছোটবেলায় বিকেলের জলখাবারে মা মুড়ি দিলে বেশির ভাগ সময় মুখ বিকৃত করেছি। তারপর চুপচাপ খেয়েও নিয়েছি ।
(ও বাবা, ওই চোখ তো দেখোনি, এখনো ভাবলে গা শিউরে ওঠে ভয়ে)
😁
তবে ট্রেনের ঝালমুড়িটা অবশ্য বরাবরই  প্রিয়।ট্রেনে উঠে থেকে মনটা উশখুশ করতো কখন উঠবে ঝালমুড়ি।
মেখে, ঝাঁকিয়ে, ঠোঙায় দিয়ে ওই যে লাস্ট এ একটা নারকোল গেঁথে দিতো!! ....আহা, অমৃত!

যাগ্গে যা বলছিলাম, এই লকডাউনের বাজারে শুরু হলো অনলাইন শপিং ।
অনলাইন ইন্ডিয়ান দোকান থেকে অন্যান্য জিনিসের সাথে আনানো হোল  এক প্যাকেট মুড়ি । হল্যান্ডে আজ বহু বছর মুড়ি কেনা হয়নি।কখনই বা খাবো? অফিস থেকে ফিরেই ডিনার খেয়ে নেবার অভ্যেস হয়ে গেছিলো বহুদিন ।

গত সপ্তাহে একদিন দুপুরের দিকে মিটিংয়ের ফাঁকে পেটে গুড়গুড় করে আওয়াজ হলো । খিদে । মনে পড়লো আরে. বাড়িতে তো মুড়ি আছে।
কর্তাকে জিজ্ঞেস করলাম, মুড়ি খাবে?
বেশ রাজসিক স্টাইলে বললো,  খেতে পারি তবে আলু সেদ্ধ দিয়ে মাখলে ভালো হয়....
(মানে খেয়ে, মুড়িকে এবং আমাকে ধন্য করা)
খুব যত্ন করে মাখলাম। পেয়াঁজ, লঙ্কা, শশা, আলু সেদ্ধ, চানাচুর, সর্ষের  তেল ।
তৃপ্তির সাথে খেলাম দুজনেই।
ওমা, পরের দিন শুনি কর্তা  ফোনে মা কে বলছে, "মুড়িটা আমার তেমন ভালো লাগেনা, চিবোতে চিবোতে মাথা ধরে যায়। ..."

পরের দিন তিনটে নাগাদ আবার খিদে।..আমি সেদিন মুড়ি মাখলাম বাদাম দিয়ে।
আবার জিজ্ঞেস করলাম, মুড়ি মাখছি , খাবি?
বললো ,"দে........ , খাই"
এক বাটি ভ্যানিশ ! মাথা ধরার কোনো চিহ্ন তো দেখলাম না.......

পরের দিন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ।এবার মুড়িতে ছিল ছোলা আর পেয়াঁজ। 
আবার ভ্যানিশ।


আজকের  ঘটনা কিন্তু একটু অন্যরকম । আজকে বাড়িতে না আছে চানাচুর, না আছে বাদাম , না আছে ছোলা।
আজকে প্রকাশ পেলো আসল বাঁকড়ির বাঁকড়িত্ব । হলো রক্তের পরীক্ষা !

[Flashback ]
মনে পড়ে গেলো বাঁকুড়ার গ্রামের বাড়ি । আমরা সবাই মিলে হৈহৈ করে যেতাম দোলের সময় ।
সকালে ব্রেকফাস্ট এ মুড়ি। তবে বাদাম ছোলা দিয়ে ঝালমুড়ি বানিয়ে নয়।
বড় পাত্রে মুড়ি আর সাথে দোলের মেলা থেকে এনে গরম গরম আলুর চপ। 
এবার আসি খাওয়ার কায়দায়।
প্রথম দু এক কামড় চপে । একটু চিবিয়ে তারপর মুঠো করে মুড়ি অল্প দূরত্ব থেকে মুখের মধ্যে ছুঁড়ে দেওয়া ।
এমনি ভাবে কিছুটা খেয়ে যখন বাটিতে একটা চপ বেঁচে তখন চপটাকে মুড়ির সাথে মেখে ফেলা। মুড়ি পুরো হলুদ, অল্প ভেজা ভেজা, ঠিক যেন তরকারি দিয়ে মাখা। অনেকে আবার সামান্য জল দিতেন তাতে । একটা সোঁসোঁ করে আওয়াজ হতো.....মুড়ি জল টানছে।
তারপর সেটা জমিয়ে খাওয়া।উফ কি দারুন স্মৃতি! 
সেই আলুর চপ একবার বেশ কয়েকটা খেয়ে যা কান্ড হয়েছিল।..গ্রামে তখন টয়লেট ছিল না।  সে আরেক গল্প, বলবো আরেকদিন । আজকে মুড়িতে ফোকাস।

আজকে আমার ফ্রিজে ছিল ফুলকপির তরকারি ।
কর্তাকে বললাম , মুড়ি মাখার আজ কিছু নেই , আমি তরকারি দিয়ে খাবো। খাবি?
অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, "তরকারি দিয়ে? নাহ ! "

হার্ড-কোর বাঁকড়ি তৃপ্তির সাথে এক বাটি মুড়ি মেখে খেলো তরকারি দিয়ে। ..
Nostalgia  can be so sweet!

বাটিতে ভরে মশলা মুড়ি,
পাকলে খায় ফোকলা বুড়ি !
মুড়িতে কটা বাদাম ভাজা,
গুনতে বলেন পাগলা রাজা ।
মন্ত্রীমশাই যদিও কুঁড়ে, 
ছাঁচি পেয়াঁজ আনেন খুঁড়ে। 
সেনাপতির মুখে ঢাল,
মুড়িতে নাকি বড্ড ঝাল, 
এমন সময় দমকা হাওয়া,
উড়লো মুড়ি, ভন্ড খাওয়া!





Thursday, 2 April 2020

হুঁকোমুখো হ্যাংলা (বাংলা)

Risking Coronavirus Amid Lockdown, Kolkata Rushes To Sweet Shops

https://www.ndtv.com/kolkata-news/risking-coronavirus-amid-lockdown-kolkata-rushes-to-sweet-shops-2203893

pc: ndtv

[কবি ক্ষমা করবেন]

হুঁকোমুখো হ্যাংলা,  বাড়ি তার বাংলা,
মুখে তার হাসি নাই দেখেছো?
নাই তার মানে কি? কেউ তাহা জানে কি?
সামনে কি সন্দেশ রেখেছো?

কোথা পাবে দানাদার, এ কেমন অনাহার
মিষ্টির অভাবে যে দিশেহারা ,
তাই বুঝি একা সে, মুখখানা ফ্যাকাশে,
বসে কাঁদে হুঁকোমুখো বেচারা !

নলেনের পায়েসে, চোখ বুজে আয়েসে,
ক্ষীর-কদমে যার  ফুর্তি,
জীবন জিলিপি বিনা, লেডিকেনি পাবে কিনা,
ভেবে তার  কাচুমাচু মূর্তি ।

পান্তুয়া দুইখানা, এক মুঠো মিহিদানা
লবঙ্গলতিকা দ্যাখে স্বপনে,
একুশটা গোটা দিন, এমনই মিষ্টিহীন
হুঁকোমুখো একা কাঁদে গোপনে ।

চমচম সুস্বাদু , মুখেতে মেলায় জাদু
হৃদয়ে জাগায় সে আলোড়ন,
কালোজাম বোঁদে ওই, ভাঁড়েতে মিষ্টি দই
বাঙালি মিষ্টি-প্রেমে আমরণ !

ভালোলাগে খেতে অতি, নাই আজ কোন গতি
দোকান যে আজ সব বন্ধ,
মিষ্টির শোকে হায়, বাঙালি মৃতপ্রায়,
জীবন যে হারায়েছে ছন্দ!

হুঁকোমুখো হেঁকে কয়, কারুকে করিনা ভয়,
শুধু শুধু করিসনে হল্লা,
কোরোনা-ফোরোনা সব, দেশ জুড়ে অতিরব
শান্তিতে খাবো রসগোল্লা!

হঠাৎ আকাশে আলো, দেখে হয় মন ভালো
দেখা দেন দেবী, হাতে কালাকাঁদ,
"কোরোনার ভয় রাখ,লকডাউন নিপাত যাক
এ নেহাতই শত্রূর পাতা ফাঁদ"  !

এরপর তেলেভাজা, কিংবা ফুলুরি তাজা
হুঁকোমুখো জানালো যে আবেদন ,
দেবীর স্মিত হাসি, "তোদেরকে ভালোবাসি
দাঁড়া ব্যবস্থা করছিক্ষন" !!

বিবেক: 
নাই বা খেলি মিষ্টি কদিন, কিসের হতো ক্ষতি ?
রক্তে ভরা সুগার তোদের, তাতেও এই দুর্মতি? 
দুধের যদি এতই জোগাড়, হচ্ছে অপচয়,
খিদেয় যারা কাঁদছে তাদের খাইয়ে দিলেই হয়......... 





Tuesday, 25 February 2020

Namaste-Howdy

pc: indiatoday















রাজা কয় রাজারে
আহা মরি বাহারে ,
দেশখানা অপরূপ,
খাসা বলে যাহারে!

রাজা কয় রাজারে,
বলি আর কাহারে?
সম্পদ ভরা আছে
নদী বন পাহাড়ে !

রাজা কয় রাজারে
লাগে বাজে, আহারে
না বুঝে প্রজা কেন
ধ্বংসায় তাহারে!

রাজা কয় রাজারে
আয় বসি আহারে,
সামোসাতে ব্রকোলি
শুনে ওম সাহারে !

রাজা কয় রাজারে
তাজ দেখে ভায়ারে
গিন্নির প্রেমে ডুবি
নাই কোনো ভাষারে !

রাজা কয় রাজারে
fake news বাজারে,
আমি নাকি টুইট করি
বোকা এলোপাথারে!

রাজা কয় রাজারে
fake কহি কাহারে
টুইট তোর মাঝ রাতে
পড়ে হাসি হাহারে !



Friday, 21 February 2020

দাম্পত্য কলহ -মহাশিবরাত্রি

ভক্তরা দুধ মিষ্টি ফুল ফল ঢেলেছে শিবের মাথায় । জটা চ্যাটচ্যাট করছে ।
মা দুগ্গা গজ গজ করতে করতে শ্যাম্পু করে দিচ্ছেন। 



pc:pinterest


মা:
বুঝিনে বাপু মর্তে কেন উড়িয়ে রাতের ঘুম,
উপোষ করে তোমার মতন স্বামী পাবার ধুম!
একরাশ জটা, ফনার ঘটা, কোনটা ভালো লাগে!
চোখ ঢুলু ঢুলু, বাঘছাল ছাই, তবুও প্রেম জাগে?
চারিদিকে আজ 6-প্যাক আর Josh-ভরা প্রাণ,
মন কেড়ে নেয় হ্যান্ডসম dudes ভিকি আয়ুষ্মান !

বাবা:
সবাই কি আর তোমার মতন অস্ত্র নিয়ে খাড়া ?
পান থেকে চুন খসলে পরে জাগিয়ে তোলে পাড়া !
আমার জটা যুগ যুগ ধরে এখনো চলছে হিট,
পুচকে ছেলের 6-প্যাক নিয়ে দুদিনের খিটখিট !
ভোলাভালা নির্ঝঞ্ঝাট স্বামী কে না বলো চায়?
গিন্নি,
তোমার মতন ভাগ্য করে কয়জন তা পায়!

মা:
ইইইস, ভোলাভালা নির্ঝঞ্ঝাট ঠিক বলেছো বটে,
থাকো এমন চুপটি করে, প্রচুর বুদ্ধি ঘটে!
নন্দী ভিঙ্গি ডাক দিলে কিছুই থাকে না মনে,
আমি কিছু বললে পরে কে কার কথা শোনে!
কাজের বেলায় জটা কেন, দেখতে পাইনা টিকি
সব কিছু আমার ঘাড়ে, হেল্প নেই এক সিকি !

বাবা:
হেল্প করার চেষ্টা কি আর করিনি আমি আগে?
যাই করেছি খেঁচানি কেবল জুটেছে আমার ভাগে।
বাজার গেলে দোকানি নাকি ঠকিয়ে করে ভূত ,
কুমড়ো পটল যাই আনি,কোনোটারই নেই জুত!
হাতা খুন্তি ধরলে বলো সময়ের অপচয়,
তান্ডবে মোর জগৎ নাচে, তোমার পছন্দ হয়?

মা:
ছেলেমেয়ের পড়াশোনা, কিংবা দোকান বাজার,
কোনোটাতেই হাত না দেবার অজুহাত দাও হাজার!
আমি সারাদিন খেটে মরি, খিটখিটে আর বাজে,
তুমি 'cool dude' ডুগডুগি নিয়ে ভোলাবাবার সাজে !
শিবের মতন বর পাই যেন, চারিদিকে কলরব,
যে যাকে নিয়ে করে ঘর, শুধু সেই বোঝে সব !

বাবা:
আমার মোটে দুই খানা হাত, তোমার আছে দশ,
তোমার মতন multitasking কজন পারে Boss?
জানোই তো, আমি কেমন অচল তোমায় ছাড়া,
কোনো কাজটাই সঠিক ভাবে হয়না আমার দ্বারা !
তোমার শক্তি, তোমার সাহস, অসুরেও হার মানে,
তোমার মাথা ঠান্ডা কেমন, কে আর না জানে?
[মায়ের মুখে অল্প হাসি ] .......

Jokes apart গিন্নি,
ভক্তদের বুঝিয়ে বলি, মর্তের যা করেছিস হাল, 
আমার মাথায় জল না ঢেলে নিজের মাথায় ঢাল !
মাথা ভরা ঘিলু দিলাম, লাগাবি বলে কাজে,
তবুও ভন্ডদের কথায় নাচিস তোরা বাজে। 
এক ঘটি দুধ আছেই যদি, দে শিশুর হাতে তুলে,
মানুষের মুখে হাসি ফোটা, আমার মাথা ভুলে  !

[গিন্নি কে ]
গিন্নি, তোমার ওই হেয়ার ড্রায়ারটা দিয়ে একটু জটাগুলো শুকিয়ে দাও দিকি।....
ডিনারে আজকে সাবুমাখা  তো? 
Diet-সন্দেশ দিয়ে মেখো, বয়স হচ্ছে! 
আজ গ্যাস, কাল কনস্টিপেশন। .... আর ভালো লাগেনা !

Friday, 15 November 2019

দুই বিঘা জমি (২.৭৭ to be more precise)


pc:wikipedia.org











কবিগুরু ক্ষমা করিও।......নেহাতই হিজিবিজি।

শুধু বিঘে দুই জমি নিয়ে আজ অবসান হলো লড়াই, 
করিলেন রাজা ঘোষণা আজিকে জগৎসভায় বড়াই !
কহিলাম আমি, তুমি ভূস্বামী, কেমনে  দিলে এ রায় ,
বোঝো নাকি রাজা, তোমার রাজ্যে প্রজারা শান্তি চায়?
শুনি রাজা কহে, বাপু জানো তো হে, হাতে আছে প্রমান,
বিচারপতির  ন্যায্য বিচারে, অধিকার সব সমান!
বিদীর্ণ হিয়া ফিরিয়া ফিরিয়া চারি দিকে চেয়ে দেখি–
উদাসীন প্রজা ক্লান্ত আজিকে বিচার হলো একি!
সজল চক্ষে কহিনু রাজারে, যদি সত্যি বাসিতে ভালো,
দেবতারে ঘরে বন্দি না করিয়া, জ্বালাতে জ্ঞানের আলো !
যেই দেশে হায়, শিক্ষার অভাবে সমাজ তমসাময়,
মহারাজ  ......
দুবিঘাতে তুমি গড়িলে না কেন সেথায় বিদ্যালয়?

No pun. No double meaning. No nothing.


*************************************************************
2.77 acres, to be precise

2.77 acres of land, the end of the legal fight,
Verdict has been declared by the king alright!
Your Highness, O landlord, do you not hear?
the judgement is painful for your subjects to bear.
" Based on evidence" said he with an air,
"Justice has been served, rightful and fair".
I looked around me, only to find....
wounded and shocked, the heart and the mind.
With tears in my eyes, I challenge him loud,
if only you cared, you would have found,
Your people need education to bring in the light
of progress and peace, the future so bright!
HE needs no more houses, HE is everywhere, 
2.77 acres of land, why can't you build a school there?
******************************************************************************************


Adapted and Inspired from:
"Dui Bigha Jomi" is a Bengali language poem written by Rabindranath Tagore.The poem describes a peasant's love towards his land and was the inspiration for the story Rickshawala, on which the Hindi film Do Bigha Zamin, directed by Bimal Roy, was based.


  

Tuesday, 1 October 2019

"Local " দশভুজা



যাচ্ছি আমি বাপের বাড়ি, সঙ্গে ছেলে মেয়ে,
সারা বছর বসে থাকি এই দিনের দিকে চেয়ে ।
গুছিয়ে শাড়ি, গুছিয়ে বাড়ি দেব আমি পাড়ি ,
বছরে এই একটি বারই যাই যে বাপের বাড়ি । 
শিবুকে বলি চলোনা সাথে, তুমি মর্তের জামাই,
তার নাকি কৈলাশে কাজ করা যাবেনা কামাই ।
পুজোর ধুতি দিলেম কিনে তবু ও বাঘের ছাল
নন্দী ভৃঙ্গী ভূত দুটোতেই করেছে  এই হাল ।
মর্তে যাবার রাস্তাও তো লম্বা খানিক বেশ
নৌকা, ঘোড়া, ট্রেনে চেপেও রাস্তা হয় না শেষ ।
চার চারটে বাচ্চা নিয়ে ট্রাভেল কি আর সোজা?
আমিও খাই হিমশিম ওরে  যদিও দশভূজা ।
গনেশ আমার সাধাসিধে কিন্তু পেটুক বড়,
চপসিঙ্গারা খাবে রাস্তায় যতই বারণ করো  ।
বোঝাই কত, এই বয়সে বাড়ছে কেন  ভুঁড়ি,
ঘিয়ে ভাজা লাডডু খেতে নেই তবু তার জুড়ি!
সরস্বতী উঠেই ট্রেনে বইয়ের ভেতর মুখ,
পাইনা ভেবে পড়াশোনায় কিসের এত সুখ ।
ঘরের কাজে ছিটেফোঁটাও নেই কোনো তার মন,
শিবু বলে, chill গিন্নি, ঠিক শিখবেখন ।
লক্ষী আমার ব্যাগ সামলায় টাকা পয়সা বিল
এক নয়াও হিসেবে কিছুর হয়না গড়মিল।
চাল ডালের ভাঁড়ার সবই রাখে সঠিক ভরে,
এক পাতা অঙ্ক দিলেই , তখন মাথা ঘোরে  !
কার্তিকটা বড়ই ফাজিল  এদিকওদিক চোখ,
সব স্টেশনে নামা চাই ওর, ভিড় যতই হোক।
ফিনফিনে গোঁফ বাবরি চুলের বাহার দেখে ভাবি ,
মায়ের চোখে ফাঁকি দিয়ে কোথায় বা আর যাবি ?
এরওপর এ আছে সবার নিজের নিজের pet,
তাতেই যাবে সময় খানিক করতে তাদের set।

যাকগে এসব সংসার কথা থাকি কদিন ভুলে,
'ঘর ঘর কি কাহানি' রাখি নাহয় তুলে ।
মর্তে সবাই আহ্লাদে উঠবে কেমন মেতে ,
তাই তো লাগে ভালো আমার বাপেরবাড়ি যেতে ।
আমার মতন দশভুজা সেথায় ঘরে ঘরে,
আমার সকল আশীর্ব্বাদ রইলো তাদের তরে।
দুইটি হাতে হাসি মুখে সামলে চলেছে ধরা,
তারাই শক্তি, হৃদয় তাদের ভালোবাসায় ভরা !
ঘরে ঘরে এই মেয়েদেরই সম্মানে করো পূজা,
এরাই হলো  মর্তলোকের "Local" দশভুজা !