Saturday, 12 August 2023

আমি সুরে সুরে ওগো তোমায় ছুঁয়ে যাই



খুব যত্ন করে হরিভাউ বানিয়েছেন আমাকে। উনি থাকতেন মুম্বাই এ, হয়তো এখনো আছেন । হরিভাউ স্বপনে জাগরণে শুধু গান বাজনা ভাবতেন - ওনার বানানো তানপুরা, সেতার , গিটার দেশের এবং বিদেশের নানা কোণে ছড়ানো । আমি তাদেরই মধ্যে একজন।
আমি তানপুরা ........ 

একদিন দোকান এ বসে হরিভাউ ফোনে কারুর সাথে কথা বলছিলেন । ফোন রেখে উনি আমার কাছে এসে দাঁড়ালেন - একবার বাজালেন-  আমার চারটে তার এক সুরে বেজে উঠলো - কেন জানি না আমার অজান্তেই বাজলো বিদায়ের সুর|বুঝলাম এবার যেতে হবে । অন্যান্য কিছু বন্ধু বান্ধবের সাথে পাড়ি দিলাম সাত সমুদ্র পেরিয়ে একটা ছোট্ট দেশে- ওলন্দাজদের দেশ ।
হল্যান্ড ।

এসে নামলাম Rotterdam এ - সেখান থেকে সোজা সামসুদ্দিন ভাইয়ের দোকানে । সারা রাস্তা জানলা দিয়ে বাইরে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকলাম- কি সুন্দর এই দেশ । মনে মনে ভাবলাম কি জানি এরা কেমন মানুষ ! আবার ভাবলাম যেমনই হোক না কেন, আমি আমার সুরে সুরে দেশটা ভরিয়ে দেবো । আমার সহযাত্রী দুই সেতার ও এক সরোদ ও নিশ্চয় তাই ভাবছিলো - সবাই জানলার দিকে তাকিয়ে একটু যেন আনমনা। আসলে বিদেশের মাটিতে জীবন কেমন কাটবে- মাথার মধ্যে অনেক চিন্তা  .....
পরেরদিন সকালেই সামসুদ্দিন ভাই আমাদের ঝেড়ে মুছে সাজিয়ে দিলেন ওনার দোকানে । এবং তার ঘন্টা খানেকের মধ্যেই দোকান এ দুই ডাচ মহিলার আগমন । কি যে দুজনে খসখস ঘষঘষ করে বললেন সামসুদ্দিন ভাইকে  (অবাক হয়ে শুনলাম এদের ভাষা, কিছু বুঝলাম না। এখন কিন্তু আমি ভাষাটা পুরো বুঝি 😊)
উনি আঙ্গুল তুলে আমার দিকে দেখালেন ।
দুজন কাছে এসে দাঁড়াতেই কি যে হলো আমার- যেন মনে হলো আমি এদের জন্যই তৈরী হয়েছি । কি শান্ত হাসি দুজনের মুখে । আমাকে দেখে ছোট শিশুর মতন চোখে আনন্দ । আবার নিজেদের মধ্যে সেই খসখস ঘষঘষ ভাষায় কিছু বলাবলি হলো ।

একজন এগিয়ে এসে আমার তারে হাত দিলেন। 
আমি উত্তর দিলাম  ....সা ....
উনি ওনার বান্ধবীর দিকে তাকিয়ে হেসে ইশারা করে বললেন কিছু বাজাতে, দ্বিতীয় মহিলা ও এসে ছুঁলেন আমাকে।
আমি বললাম   ..... পা  ......সা  ......
অনেক প্রশ্ন , আমার এক উত্তর   ...পা ...সা.....সা .....
চোখ মুখ এবং কথা বলার আনন্দ দেখে বুঝলাম খুব পছন্দ হয়েছে আমাকে । 

ফেলিন আর মিরা । ভালোবাসায় ভরা সংসার দুই বান্ধবীর ।
বাড়িতে নিজেরা Yoga ক্লাস করে। সেই ক্লাসে তানপুরা বাজাতে চায়, আমাকে সযত্নে নিয়ে এলো বাড়ি । আমার যে কি ভালো লাগতে শুরু করলো - রোজ সকাল এ ক্লাস হয়, আমাকে ঘিরেও নানা কৌতূহল, মন প্রাণ ঢেলে সুরের ঢেউ তুলতে লাগলাম। ওদের হাসি কান্না ভালোবাসা -সব মিলিয়ে জীবন চললো । কেটে গেলো ১০ বছর ।

ফেলিন আজ নেই । ওর অনন্ত শেষ যাত্রাতে আমি মন প্রাণ উজাড় করে বিদায় জানিয়েছিলাম।
 .. সা... .... পা   .....  সা ....
মিরা মুভ  করছে একটা ছোট এপার্টমেন্ট এ- সেখানে সব জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বয়স ও হয়ে গেছে, আমাকে বাজাতে চাইলেও হাতের ব্যথার জন্য বাজাতে পারেনা - arthritic wrist  খুব বেদনাদায়ক। 
শুনলাম বন্ধুকে বলছে ফোনে, কাউকে চেনো যে তানপুরা বাজাতে ইচ্ছুক? আমি বিক্রি করতে চাইনা কিন্তু এমন কাউকে দিতে চাই যে আমার আর ফেলিনের এই প্রিয় বাদ্যযন্ত্রটা ভালোবেসে বাজাবে ।

দুদিন পরেই বন্ধু হাজির।কাউকে বুঝি পাওয়া গেছে ।
 বেরিয়ে পড়লাম আমার নতুন বাড়ির উদ্দেশ্যে ।

 " D "  
আমাকে হাতে পেয়ে চোখে মুখে ঝকঝকে উত্তেজনা । এক দেখাতেই বাড়িটা আর D কে আমার বেশ ভালো লাগলো । তবে বাজানো দেখেই বুঝতে পারলাম বহু বছর পর তানপুরাতে হাত দিচ্ছে । কিন্তু ছোঁয়ার মধ্যে একটা অদ্ভুত ভালোবাসা অনুভব করলাম - কেমন জানি আমাদের একটা কানেক্ট হয়ে গেলো - যেন এই বাড়িতে আসাটা আমার ভাগ্যে লেখা ছিলো । নয়তো কোথায় হরিভাউ, কোথায় সামসুদ্দিন ভাই, কোথায় ফেলিন , কোথায় D - 
আমরা কেমন করে এক তারে বাঁধা!

রোজ সকাল এ ঘুম থেকে উঠেই আমার তারে একটা ঝংকার দিয়ে তারপর D চায়ের জল বসায় । ঠিক যেন আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলার জন্য একটা ঠেলা । তারপর সারাদিন নানা কাজে ব্যাস্ত থাকে ঠিকই তবে আমার প্রতি ভালোবাসাটা আমি স্পষ্ট অনুভব করি । অনেকদিন বাদে আবার গান শিখছে - গলা কাঁপে কিন্তু প্রচুর শক্তি পায় সুরের মাধ্যমে । রেওয়াজ করবো ভেবেও রোজ বসা হয়ে ওঠে না - একটু ফাঁকিবাজ ও আছে ।আমি কিছু বলিনা - তবে মুচকি মুচকি হাসি । আমাদের একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক হয়ে গেছে , অনেক মনের প্রাণের কথা হয় আমাদের ।
আমিও মনপ্রাণ দিয়ে সুরের শক্তি উজাড় করে দি D কে।
 .. সা... .... পা   .....  সা ....
 রাগ ইমন, ভৈরব, কাফি, খাম্বাজ এসেছে আমাদের জীবনে  - দুজন মেতে উঠেছি সুরে সুরে। ....

এরপর যেটা হলো সেটা একটা স্বপ্নের মতন । 
সকাল সন্ধে শুরু হলো এক আলোচনা - কৌশিকী চক্রবর্তী নাকি আসবেন  নেদারল্যান্ডস - Cheerful Child এর fundraiser - সেই টাকা দিয়ে বাচ্চাদের স্কুল তৈরী হবে। আলোচনা যত বাড়তে লাগলো তত বাড়তে লাগলো উত্তেজনা । D  যেন যুদ্ধে যাচ্ছে এমনি একটা ভাব । সারাক্ষন Youtube এ কৌশিকীর গান বাজছে বাড়িতে - ভুরু কুঁচকে নানা হিসেবে নিকেশ করছে কম্পিউটার খুলে - ফোনে নানা আলোচনা , প্লেনের টিকিট, কার গাড়ি যাবে,  স্টেজ কে সাজাবে, ডিনার এ কি খাওয়ানো হবে  - সে হৈ হৈ রৈ রৈ ব্যাপার ।আমি তো চুপচাপ সব শুনছি আর ভাবছি  ...... 
D -র পাগলামির কি শেষ নেই  !!
হঠাৎ একদিন শুনি D ফোনে কৌশিকীর সাথেই কথা বলছে  -
"আমার একটা তানপুরা আছে - তবে জানি না সেটা তোমার ঠিক লাগবে কিনা, এটা G # এ বাঁধা"

ব্যাস, আমার তো ঘুম গেলো উড়ে । সারা দিন রাত স্বপ্ন দেখতে শুরু করলাম যে স্টেজে আমি কৌশিকীর সাথে সুর মেলাচ্ছি ।
মন থেকে কিছু চাইলে শুনেছিলাম সেটা  সত্যি হয় - the universe makes it happen. আমার জীবনেও ঠিক সেমনি কিছু হলো. 
৩০ জুন : কৌশিকী নিজে হাতে আমাকে নতুন তারে বাঁধলো - ঠিক যেন নতুন জীবনের শুরু ।
প্রত্যেকটা ঝংকারে আমি উজরে দিলাম আমার মনের কথা, ধন্যবাদ জানালাম ঈশ্বরকে যিনি আমাকে এমনি সুযোগ দিয়েছেন - জগতে সুর ভরিয়ে দেওয়ার।

ছবিটা দেখো। বাঁদিক থেকে দ্বিতীয় - আমি !!
😊

এরপর জীবন কোথায় নিয়ে যাবে জানিনা - তবে D র কাছে থাকতে চাই সবসময় ।
ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি যেন যেখানেই থাকি, সুরে থাকতে পারি ।

আমি সুরে সুরে ওগো তোমায় ছুঁয়ে যাই. 
নাই বা পেলাম দরশ তোমার, গানে গানে যেন তোমায় পাই। ......

30th June - "Blessings " concert  Amsterdam 


ps :অনেকটা  সত্যি, কিছুটা কাল্পনিক 

Monday, 19 December 2022

Adios ....till 2026

 



ফুটবলে "গোল" ছাড়া কিছুই বুঝিনা !
ফ্রি কিক আর পেনাল্টিটা তবু অল্প রপ্ত করেছি ।
তবে অফসাইডটা আর ইহজীবনে বোঝা হয়ে উঠলো না ।


"আচ্ছা বলটা কি পেছনে থাকতে হবে?"
-নানা, অফসাইড হচ্ছে যখন প্লেয়ার অপোনেন্ট প্লেয়ার এর গোল লাইন থেকে   ...ইত্যাদি। ইত্যাদি।...!
"তাহলে কি প্লেয়ারকে পেছনে থাকতে হবে?"
-নানা, অফসাইড হচ্ছে যখন প্লেয়ার এর লাইন   ... ..ইত্যাদি।..
"আচ্ছা এতো ভালো গোলটা কেন ক্যানসেল হলো?"
-অফসাইড হলো তো!
"আচ্ছা এটা  কি অফসাইড?"
-না


লক্ষ্য করলাম উত্তর সংক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। প্রথমদিকে বোঝাবার চেষ্টা, পরের দিকে হাল ছেড়ে দেওয়া!
সে যাগ্গে ফুটবলের technicalities  ......
প্রায় দুবছর বাদে আবার কিছু হিজিবিজি লিখতে পেরেই আমি খুশি ।

বন্ধুদের জানাই অনেক ধন্যবাদ।
তোমরা পড়লে, বাহবা দিলে  .....
ধন্যবাদ হিজিবিজিকে - অনেক মজার মধ্যেও অনেক সাহস, অনেক শক্তি!
Thank you all...

কাল কান পেতে শুনলাম World Cup কি বলে........

বসে ছিলাম একটি মাস, অসীম ধৈর্য ধরে,
কে জিতবে আমায়, কেগো নেবে আপন করে !
কান্না হাসি উত্তেজনায়, ভরিয়ে সবার মন,
ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ আটকে অনুক্ষণ!
খেলার মতন খেলা হলো, হে হারে কে জেতে,
ছুটলো সবাই বলের সাথে, উঠলো জগত মেতে!
মাতলাম আমি মেসির হাতে, জিতের উন্মাদনা,
বইলাম আমি ফরাসি চোখে হয়ে অশ্রুকণা !

সবার চাইতে বড় হলো খেলার মাঠে খেলা,
হারজিত তো আছেই লেগে, কাপ মেডেলের মেলা!
কেউ জিতবে, কেউ বা যাবে ভালো খেলেও হেরে,
কেউবা আবার হেরেও নেবে সকলের মন কেড়ে!
কান্না হাসি পাশাপাশি, তবেই জীবন চলে,
হারকে যে নেয় আলিঙ্গনে, তাকেই জয়ী বলে।

স্বপ্ন নতুন উঠবে সেজে কত আমায়  ঘিরে,
কান্না হাসির লোভে আবার আসবো আমি ফিরে!
দিন গোনা আজ শুরু হলো, আবার নামবো মাঠে,
হাসবো কাঁদবো খেলবো আবার হিজিবিজির পাঠে!

Sunday, 4 December 2022

....কুছ ভি হো সক্তা হায়



আজ রবিবার 
আগামী চারটে দিন খুব ক্রিটিকাল - লাইফ মে কুছ ভি হো সক্তা হায়  .......
কিছু হিজিবিজি বিধিবিধান দিয়ে রাখলাম ...
Till Friday : May the best team win.

কাল সোমবার 
সকালে উঠিয়া, উত্তরে দুই ঘটি জল,
দুপুরে নিরামিষ, সাথে হরিতকি ফল,
বৈকালে প্রার্থনা, ধুপ ধুনো সাথে, 
রাত্তিরে মাখিবে সাবু নিজ হাতে ।

পরশু মঙ্গলবার 
সকালে উঠিয়া চিবায়ে তুলসীর পাতা, 
দুপুরে খিচুড়িভোগ গুনে দুই হাতা, 
বৈকালে হাঁটু মুড়ে করিবে যোগাসন,
রাত্তিরে গীতা পাঠ দিয়া প্রাণমন ।

তরশু বুধবার  
সকালে উঠিয়া কাচা গেরুয়া পরনে 
আমলকি ছেঁচে খাবে প্রতি দুইক্ষনে, 
বৈকালে গামছা পরে দেবে জলে ডুব 
ভজন গাইয়া মাথা ঝাঁকাইবে খুব ।

ঘরশু বিশুতবার 
সকালে উঠিয়া জলে ছাতু খাবে গুলে,
পাঁচালি পড়িবে সবে শুধু দুলে দুলে,
বৈকালে এক ঘটি বানাইবে ঘোল,
নেচে নেচে বলিবে বল হরি বোল !

এ প্রথা মানিয়া যে দল করিবে পালন,
গোলদেবীর কৃপাদৃষ্টি পাইবে অনুক্ষণ !
পেনাল্টি, কর্নার,  সব যদি চাও,
বিধি মেনে আজ থেকে সব করে যাও। ..
শুক্কুরে কিবা হবে, ভেবে দিশেহারা,
মেসি আর ভার্জিলে কাঁপাইবে পাড়া  ...............

 



Sunday, 27 November 2022

কবিগুরু ক্ষমা করবেন হিজিবিজিকে

কবিগুরু ক্ষমা করবেন হিজিবিজিকে 
Argentina -Mexico 
২-০
[স্টেডিয়াম এ গান ]



মেসি আমার মেসি ওগো, মেসিতে জীবন ভরা,
মেসির খেলায় মুগ্ধ কাতার, মেসি হৃদয় জোড়া ।
নাচে মেসি নাচে ও ভাই মোদের প্রাণের কাছে,
খেলে মেসি খেলে ও ভাই, বিশ্বকাপের মাঝে ,
জাগে আকাশ, ছোটে বাতাস, হাসে সকল ধরা। ..

মেসির স্রোতে পাল তুলেছে বিশ্বকাপের গতি,
মেসির ঢেউয়ে উঠলো নেচে নিন্দুকেরও মতি...

গোলে গোলে মেসি ও ভাই, যায়না যেন গোনা।
ফ্যানের মুখে হাসি ও ভাই , পুলক রাশি রাশি, 
আশার আলোয় ফিরলো মেসি এমন মনোহরা। ...


Wednesday, 23 November 2022

Omedetto gozaimasu : Congratulations!

#হিজিবিজি 



Konnichiwa Konnichiwa গোল দিলো দুইখান,
Gutentag এর সেকেন্ড হাফে বেরিয়ে গেলো প্রাণ ।
Hajimete এ অঘটন ঘটলো কেমন করে?
Bitte bitteর দল আহা ফিরছে দেখি ঘরে। ..
Sushi-sashimi-র স্বাদে আজ জিভে আসে জল,
Bratwurst দুঃখে কাঁদে, পায়ে পেলোনা বল !
এক গোলেই যেই না খুশি Herr Gundogan,
বদলে দিলো পরিণতি Ritsu-Takuma-san !!


Tuesday, 22 November 2022

যত্ত সব হিজিবিজি পাঁচালি

 [পাঠকদের কাছে অনুরোধ লক্ষী পাঁচালির মতন সুর করে পড়ুন...]




GOAL !!!!!!

ARG — Lionel Messi  — 10th min.
SAU — Saleh Al-Shehri — 48th min.
SAU — Salem Al-Dawsari — 53rd min.


ঘরে ঘরে হাহাকার, বুক ভরা ব্যথা,
শোন সবে বলি আজি মেসি ব্রতকথা ।
পায়ে বল মেসি ছোটে বুলেটের মতো,
চোখবুজে মন্ত্র জপে, ভক্ত আছে যত !
মেসি মেসি করে সবে, মেসি করে গোল,
ভক্তজনে দুহাত তুলে বলে হরি বোল ! (10th minute)
গোলে গোলে ভরে যাক সৌদির ঝুলি,
মা, মাগো কালীঘাটে জোড়া পাঁঠাবলি !
অকস্মাৎ ঘটিল মর্তে ভীষণ অঘটন, (48th & 53rd minute)
সৌদির দুই গোল ভেঙে দিলো মন ।
ভক্তগণ দুঃখী বড়, একি হলো আজ,
কাতারের স্টেডিয়ামে পড়িল যে বাজ !
প্রার্থনা বৃথা গেলো, একি অভিশাপ ,
মর্তের ইতিহাসে এমন হয়নি তো বাপ !
কৈলাশে মহাদেবের জ্বলে ত্রিনয়ন,
পার্বতী রেগেমেগে kitchen এ গমন ।
হেনকালে বীনাহস্তে নারদ মুনিবর,
আসিলেন লইয়া সাথে কাতারের খবর !
কহিলেন, প্রভু আপনি বড় দয়াময়,
মেসিরে বাঁচান প্রভু থাকিতে সময় !
আজ হইতে বাঙালি করিবে উপবাস, 
মেসির নামে মাদুলি বাঁধিবে সারা মাস !
দুবেলা খিচুড়ি ভোগ পাঁচ ভাজা সাথে,
রাত্তিরে ফলাহার  দুধ সাবু পাতে ।
মঙ্গলে নির্জলা, বিস্সুতে কীর্তন,
শনিতে হরিলুঠে বাতাসা আয়োজন !
রবিতে বিপদতারিণী সুতো বাঁধা লাল, 
বুধে তিলক কেটে সাজাবে কপাল ।
সোমে ঢালবে জটায় দুধ ভক্তগণ,
হাঁচিকাশিতে প্রভু অযথা জ্বালাতন !

Chill মুনিবর, মৃদু হেসে মহাদেব কন ...
পিকচার অভি বাকি হ্যায় মেরে দোস্ত, দেখে নেবোখন ।
মেসিরে কহিও মুনি, আমিও যে ফ্যান,
এক পায়ে বল নিয়ে করি তারই ধ্যান।
বাঙালিরে কহিও পাঁচালি করিতে পঠন,
FIFA-দেবীর কৃপাদৃষ্টি পাইবে অনুক্ষণ !

Saturday, 12 November 2022

শাশুড়ি-বৌমা ছড়া-সংবাদ

আজ থেকে অনেক বছর আগের কথা । এখন ভাবলে মনে হয় আগের জন্মের গল্প। 
ঠিক যেন একটা স্বপ্ন । তারপর হঠাৎ করে যেন ঘুম ভেঙে যাবার অনুভূতি। 
সে যাগ্গে, ঘুম যখন ভেঙেছে, তখন চোখ খুলে আবার বাস্তবে ফিরতে তো হবেই। 
বাস্তব স্বপ্ন নয় ঠিকই, তবে বাস্তব ও সুন্দর 😊, এগিয়ে চলার উপায়  .....
চরৈবেতি, চরৈবেতি, চরৈবেতি ..

তখন জাপানে থাকতাম। বিয়ে করলাম এক ভারতীয় ওলন্দাজকে  (সেই গল্প বলবো আরেকদিন)।
বিয়ের পরেও এক বছর জাপানে থাকতে হয়েছিল পিএইচডি শেষ করার জন্য। অবশ্যই ঝুড়ি ঝুড়ি মন খারাপ হতো সেইসময় ।কর্তা ফোন বিল সামলাতো, আর আমি লিখতে ভালোবাসতাম চিঠি ।
জানতে পারলাম শাশুড়িমা ছড়া লেখেন । আমি ও হিজিবিজি লিখতে ভালোবাসতাম । 

শুরু হলো শাশুড়ি বৌমা ছড়ায় চিঠি।

আজ এক মেঘলা দুপুর  - পুরোনো একটা বাক্স - কিছু হাতে লেখা সুন্দর চিঠি - কিছু মনের কথা - কিছু সুন্দর অনুভূতি খুঁজে পেলাম । 
স্মৃতির হাত ধরে পৌঁছে গেলাম অনেক গুলো বছর আগের সময়ে। .....




শাশুড়ির মনের কথা
(কিন্তু লিখেছে বৌমা, জাপান ২০.৩.২০০০)

কোলে করে, পিঠে করে, বুকের কাছে আগলে ধরে ,
তিলে তিলে বড় হলো আমার গোবর্ধন,
তার কপালে জুটলো কেন, শাঁকচুন্নি ভূতনি হেন,
আহা, বাছার একি নির্যাতন ।
প্যান্ট পরে, শার্ট পরে, ভুলেও পরেনা শাড়ি,
একটা কাজ করতে বলো, মুখ করবে হাঁড়ি। ...
সিনেমা দেখার নামে এক পায়ে হয় খাড়া,
লাল টুকটুকে রং মেখে ঠোঁটে বেরিয়ে বেড়ায় পাড়া ।
কোথায় বসে শান্ত হয়ে শিখবে সাধের রান্না,
উল কাঁটায় গাঁথবে কাঁথা করবে ঘরকন্না। 
হায় রে গাবু, কি হবে তোর আমি যদি চোখ বুজি,
এই জন্যই বলেছিলাম আমি পাত্রী খুঁজি  ....
তা সইলো না তোর তর ,
হায় রে বাছা, কি করে তুই 
এরে নিয়ে করবি এখন ঘর?
[শাড়ির আঁচল এ চোখ মুছতে মুছতে ]

বৌমার মনের ইচ্ছে 
(লিখেছে বৌমা, জাপান ২০.৩.২০০০)

সবার থেকে অনেক দূরে লিখছি আমি বসে,
লেখাপড়ার নাইকো শেষ, মরছি অঙ্ক কষে ।
থাকলে কাছে ঠিক দুপুরে, দিতেম সেজে পান,
রাতের বেলা গানটি গেয়ে, ভরিয়ে দিতেম কান ।
পায়ে দিতেম মালিশ করে বুদ্ধুহুতুম তেল,
মাথার কাছে হাত পাখাটি, চলতো without fail ।
বিকেলবেলা নিজের হাতে বেঁধে দিতেম কেশ 
আদা দিয়ে চা বানাতাম, লাগতো তোমার বেশ ।
কুটনো কেটে বাটনা বেটে , এগিয়ে দিতেম হাতে,
রুই মাছের মুড়োখানি , দিতেম তোমার পাতে ।
সবার কাছে বলতে তুমি, বৌমা বড় ভালো,
সেবার কোনো নাইকো ত্রুটি  ঘর করেছে আলো ।

গাবুর মায়ের উত্তর 
(লিখেছে শাশুড়ি , কলকাতা ২৫.৪.২০০০)

মিছেই কেন দিচ্ছ দোষ গোবর্ধনের মাকে 
কোনো নালিশ নেই তার, মানে ভাগ্যটাকে ।
ইচ্ছে ছিল পাত্রী খুঁজে, বৌ আনবো ঘরে ,
সারলো গাবু সেই কাজটি, খুবই বুদ্ধি করে ।
ইন্টারনেটে পছন্দ করা , এলো গাবলী রানী ,
বড় ছোট সবার মাঝে, সবেধন নীলমনি !
নাইবা দিলো সিঁথির সিঁদুর , অঙ্গেতে নেই শাড়ি 
শার্ট প্যান্ট আর বব চুলেতেই আলো শশুরবাড়ি ।
রান্নাবান্না ঘরকন্নায়  নাইবা দিলো মন,
টিভি আর সিনেমাতে মগ্ন সারাক্ষন,
লিপস্টিকেতে রাঙিয়ে ঠোঁট, হাই হিলটি পায়ে,
এমন সাধের বৌ ছেড়ে গাবু একলা হায় ।
রূপের যে নাই তুলনা, গুনের নেই শেষ,
দেখে শুনে বলে সবাই, বাহ বেশ বেশ ।
গাবু আর গাবলী রানীর, জুড়ি মেলা ভার 
দুইজনেতে গড়বে মিলে, সুখের সংসার ।।


💕
..........খুব সুন্দর ছিল সময়টা ।