Sunday, 27 November 2022

কবিগুরু ক্ষমা করবেন হিজিবিজিকে

কবিগুরু ক্ষমা করবেন হিজিবিজিকে 
Argentina -Mexico 
২-০
[স্টেডিয়াম এ গান ]



মেসি আমার মেসি ওগো, মেসিতে জীবন ভরা,
মেসির খেলায় মুগ্ধ কাতার, মেসি হৃদয় জোড়া ।
নাচে মেসি নাচে ও ভাই মোদের প্রাণের কাছে,
খেলে মেসি খেলে ও ভাই, বিশ্বকাপের মাঝে ,
জাগে আকাশ, ছোটে বাতাস, হাসে সকল ধরা। ..

মেসির স্রোতে পাল তুলেছে বিশ্বকাপের গতি,
মেসির ঢেউয়ে উঠলো নেচে নিন্দুকেরও মতি...

গোলে গোলে মেসি ও ভাই, যায়না যেন গোনা।
ফ্যানের মুখে হাসি ও ভাই , পুলক রাশি রাশি, 
আশার আলোয় ফিরলো মেসি এমন মনোহরা। ...


Wednesday, 23 November 2022

Omedetto gozaimasu : Congratulations!

#হিজিবিজি 



Konnichiwa Konnichiwa গোল দিলো দুইখান,
Gutentag এর সেকেন্ড হাফে বেরিয়ে গেলো প্রাণ ।
Hajimete এ অঘটন ঘটলো কেমন করে?
Bitte bitteর দল আহা ফিরছে দেখি ঘরে। ..
Sushi-sashimi-র স্বাদে আজ জিভে আসে জল,
Bratwurst দুঃখে কাঁদে, পায়ে পেলোনা বল !
এক গোলেই যেই না খুশি Herr Gundogan,
বদলে দিলো পরিণতি Ritsu-Takuma-san !!


Tuesday, 22 November 2022

যত্ত সব হিজিবিজি পাঁচালি

 [পাঠকদের কাছে অনুরোধ লক্ষী পাঁচালির মতন সুর করে পড়ুন...]




GOAL !!!!!!

ARG — Lionel Messi  — 10th min.
SAU — Saleh Al-Shehri — 48th min.
SAU — Salem Al-Dawsari — 53rd min.


ঘরে ঘরে হাহাকার, বুক ভরা ব্যথা,
শোন সবে বলি আজি মেসি ব্রতকথা ।
পায়ে বল মেসি ছোটে বুলেটের মতো,
চোখবুজে মন্ত্র জপে, ভক্ত আছে যত !
মেসি মেসি করে সবে, মেসি করে গোল,
ভক্তজনে দুহাত তুলে বলে হরি বোল ! (10th minute)
গোলে গোলে ভরে যাক সৌদির ঝুলি,
মা, মাগো কালীঘাটে জোড়া পাঁঠাবলি !
অকস্মাৎ ঘটিল মর্তে ভীষণ অঘটন, (48th & 53rd minute)
সৌদির দুই গোল ভেঙে দিলো মন ।
ভক্তগণ দুঃখী বড়, একি হলো আজ,
কাতারের স্টেডিয়ামে পড়িল যে বাজ !
প্রার্থনা বৃথা গেলো, একি অভিশাপ ,
মর্তের ইতিহাসে এমন হয়নি তো বাপ !
কৈলাশে মহাদেবের জ্বলে ত্রিনয়ন,
পার্বতী রেগেমেগে kitchen এ গমন ।
হেনকালে বীনাহস্তে নারদ মুনিবর,
আসিলেন লইয়া সাথে কাতারের খবর !
কহিলেন, প্রভু আপনি বড় দয়াময়,
মেসিরে বাঁচান প্রভু থাকিতে সময় !
আজ হইতে বাঙালি করিবে উপবাস, 
মেসির নামে মাদুলি বাঁধিবে সারা মাস !
দুবেলা খিচুড়ি ভোগ পাঁচ ভাজা সাথে,
রাত্তিরে ফলাহার  দুধ সাবু পাতে ।
মঙ্গলে নির্জলা, বিস্সুতে কীর্তন,
শনিতে হরিলুঠে বাতাসা আয়োজন !
রবিতে বিপদতারিণী সুতো বাঁধা লাল, 
বুধে তিলক কেটে সাজাবে কপাল ।
সোমে ঢালবে জটায় দুধ ভক্তগণ,
হাঁচিকাশিতে প্রভু অযথা জ্বালাতন !

Chill মুনিবর, মৃদু হেসে মহাদেব কন ...
পিকচার অভি বাকি হ্যায় মেরে দোস্ত, দেখে নেবোখন ।
মেসিরে কহিও মুনি, আমিও যে ফ্যান,
এক পায়ে বল নিয়ে করি তারই ধ্যান।
বাঙালিরে কহিও পাঁচালি করিতে পঠন,
FIFA-দেবীর কৃপাদৃষ্টি পাইবে অনুক্ষণ !

Saturday, 12 November 2022

শাশুড়ি-বৌমা ছড়া-সংবাদ

আজ থেকে অনেক বছর আগের কথা । এখন ভাবলে মনে হয় আগের জন্মের গল্প। 
ঠিক যেন একটা স্বপ্ন । তারপর হঠাৎ করে যেন ঘুম ভেঙে যাবার অনুভূতি। 
সে যাগ্গে, ঘুম যখন ভেঙেছে, তখন চোখ খুলে আবার বাস্তবে ফিরতে তো হবেই। 
বাস্তব স্বপ্ন নয় ঠিকই, তবে বাস্তব ও সুন্দর 😊, এগিয়ে চলার উপায়  .....
চরৈবেতি, চরৈবেতি, চরৈবেতি ..

তখন জাপানে থাকতাম। বিয়ে করলাম এক ভারতীয় ওলন্দাজকে  (সেই গল্প বলবো আরেকদিন)।
বিয়ের পরেও এক বছর জাপানে থাকতে হয়েছিল পিএইচডি শেষ করার জন্য। অবশ্যই ঝুড়ি ঝুড়ি মন খারাপ হতো সেইসময় ।কর্তা ফোন বিল সামলাতো, আর আমি লিখতে ভালোবাসতাম চিঠি ।
জানতে পারলাম শাশুড়িমা ছড়া লেখেন । আমি ও হিজিবিজি লিখতে ভালোবাসতাম । 

শুরু হলো শাশুড়ি বৌমা ছড়ায় চিঠি।

আজ এক মেঘলা দুপুর  - পুরোনো একটা বাক্স - কিছু হাতে লেখা সুন্দর চিঠি - কিছু মনের কথা - কিছু সুন্দর অনুভূতি খুঁজে পেলাম । 
স্মৃতির হাত ধরে পৌঁছে গেলাম অনেক গুলো বছর আগের সময়ে। .....




শাশুড়ির মনের কথা
(কিন্তু লিখেছে বৌমা, জাপান ২০.৩.২০০০)

কোলে করে, পিঠে করে, বুকের কাছে আগলে ধরে ,
তিলে তিলে বড় হলো আমার গোবর্ধন,
তার কপালে জুটলো কেন, শাঁকচুন্নি ভূতনি হেন,
আহা, বাছার একি নির্যাতন ।
প্যান্ট পরে, শার্ট পরে, ভুলেও পরেনা শাড়ি,
একটা কাজ করতে বলো, মুখ করবে হাঁড়ি। ...
সিনেমা দেখার নামে এক পায়ে হয় খাড়া,
লাল টুকটুকে রং মেখে ঠোঁটে বেরিয়ে বেড়ায় পাড়া ।
কোথায় বসে শান্ত হয়ে শিখবে সাধের রান্না,
উল কাঁটায় গাঁথবে কাঁথা করবে ঘরকন্না। 
হায় রে গাবু, কি হবে তোর আমি যদি চোখ বুজি,
এই জন্যই বলেছিলাম আমি পাত্রী খুঁজি  ....
তা সইলো না তোর তর ,
হায় রে বাছা, কি করে তুই 
এরে নিয়ে করবি এখন ঘর?
[শাড়ির আঁচল এ চোখ মুছতে মুছতে ]

বৌমার মনের ইচ্ছে 
(লিখেছে বৌমা, জাপান ২০.৩.২০০০)

সবার থেকে অনেক দূরে লিখছি আমি বসে,
লেখাপড়ার নাইকো শেষ, মরছি অঙ্ক কষে ।
থাকলে কাছে ঠিক দুপুরে, দিতেম সেজে পান,
রাতের বেলা গানটি গেয়ে, ভরিয়ে দিতেম কান ।
পায়ে দিতেম মালিশ করে বুদ্ধুহুতুম তেল,
মাথার কাছে হাত পাখাটি, চলতো without fail ।
বিকেলবেলা নিজের হাতে বেঁধে দিতেম কেশ 
আদা দিয়ে চা বানাতাম, লাগতো তোমার বেশ ।
কুটনো কেটে বাটনা বেটে , এগিয়ে দিতেম হাতে,
রুই মাছের মুড়োখানি , দিতেম তোমার পাতে ।
সবার কাছে বলতে তুমি, বৌমা বড় ভালো,
সেবার কোনো নাইকো ত্রুটি  ঘর করেছে আলো ।

গাবুর মায়ের উত্তর 
(লিখেছে শাশুড়ি , কলকাতা ২৫.৪.২০০০)

মিছেই কেন দিচ্ছ দোষ গোবর্ধনের মাকে 
কোনো নালিশ নেই তার, মানে ভাগ্যটাকে ।
ইচ্ছে ছিল পাত্রী খুঁজে, বৌ আনবো ঘরে ,
সারলো গাবু সেই কাজটি, খুবই বুদ্ধি করে ।
ইন্টারনেটে পছন্দ করা , এলো গাবলী রানী ,
বড় ছোট সবার মাঝে, সবেধন নীলমনি !
নাইবা দিলো সিঁথির সিঁদুর , অঙ্গেতে নেই শাড়ি 
শার্ট প্যান্ট আর বব চুলেতেই আলো শশুরবাড়ি ।
রান্নাবান্না ঘরকন্নায়  নাইবা দিলো মন,
টিভি আর সিনেমাতে মগ্ন সারাক্ষন,
লিপস্টিকেতে রাঙিয়ে ঠোঁট, হাই হিলটি পায়ে,
এমন সাধের বৌ ছেড়ে গাবু একলা হায় ।
রূপের যে নাই তুলনা, গুনের নেই শেষ,
দেখে শুনে বলে সবাই, বাহ বেশ বেশ ।
গাবু আর গাবলী রানীর, জুড়ি মেলা ভার 
দুইজনেতে গড়বে মিলে, সুখের সংসার ।।


💕
..........খুব সুন্দর ছিল সময়টা ।



Thursday, 26 August 2021

বই পোকা


আজ অনেকদিন বাদে একটু হিজিবিজি লিখতে ইচ্ছে করলো । 
একটা বাংলা বই পড়তে পড়তে স্মৃতির কোণায় কিছু ঘটনা উঁকি ঝুঁকি দিলো বলে বোধহয় ..
বাংলা বইয়ের প্রতি ভালোবাসা জন্মেছিলো তিনটি প্রধান সূত্র থেকে ।

১. হাই স্কুলের বাংলা টিচার :  
ব্যাকরণটা একদমই ভালো লাগতো না জুনিয়ার স্কুলে। ওই সব সন্ধি-ফন্ধি, কারক-ফারক, সমাস-ফমাস। কোনোরকমে মুখস্থ করে পরীক্ষায় পাস্ নম্বর আনার জন্য পড়তাম। সত্যি বলতে কি, কান ঘেঁষে পাস  করতাম প্রত্যেকবার। হাতের লেখাটা ভাল ছিলো, হয়তো বা দু-এক নম্বর neatness এ দিয়ে পাস করিয়ে দিতেন মিসরা । সে যাগ্গে, এখন ব্যাকরণ নিয়ে আলোচনা করে কোনো লাভ নেই। বাংলা ভালো লাগতে শুরু করলো ক্লাস ৮ থেকে। ভালো  লাগার কারণ দুই বাংলা মিস। মিস মিত্র আর মিসেস চৌধুরী । দুজনে হাতে কলমে বাংলা ভালোবাসতে শিখিয়েছিলেন। সন্ধি-কারক-সমাসের উর্দ্ধে মনের ভাব কি ভাবে প্রকাশ করে আনন্দ পাওয়া যায় তাই শিখিয়েছিলেন । বাংলা লিখে ও পড়ে আনন্দ পেতে শিখিয়েছিলেন । ইংলিশ বইয়ের পোকা বরাবরই ছিলাম কিন্তু ওনারা বাংলা বইয়ের পোকা করে দিয়েছিলেন। স্কুলের বাংলা বইয়ের ছোট্ট লাইব্রেরিটা হয়ে উঠেছিল এক বিরাট আকর্ষণ। শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের লাল রঙের অমনিবাস হয়ে উঠেছিল নিত্যসঙ্গী!  কখনো ফিজিক্স বইয়ের ভেতর লুকিয়ে, আবার কখনো লেপের তলায় টর্চ জেলে। 
বইপোকা!

২. জেঠতুতো দিদি : 
দিদি আমাদের ভাইবোনদের মধ্যে সব থেকে গুণী । পড়াশোনায় যেমন ভালো আবার তেমনি গল্পের বইয়ের পোকা । কিন্তু ওই পড়াশোনায় ভালো বলে সাত খুন মাফ - কেউ কিছু বলতোনা - সে যতই গল্পের বই পড়ুক। আমি বরাবরই দিদির খুব ন্যাওটা, আবার খুব বন্ধুও । প্রত্যেক বছর যখন জামশেদপুর যেতাম গরমের বা পুজোর ছুটিতে, তখন দিদির সাথে পাড়ার ক্লাবের লাইব্রেরি যেতাম ।  নিয়মকরে প্রায় রোজ সন্ধেবেলা । লাইব্রেরিয়ান কাকু দিদিকে দেখলেই বলতেন "আর নতুন কিছু বই নেই তোকে দেবার, সবই তো তোর পড়া !!"। সেটা শুনে  আমার খুব মজা লাগতো । আমার তখন বাংলা বইয়ের প্রতি তেমন আকর্ষণ নেই । দিদি দুপুর বেলা বই পড়তো শুয়ে শুয়ে । আসতে আসতে আমার হাতেও দু একটা উপন্যাস ধরাতে লাগলো । কোনটা প্রেমের গল্প, কোনটা ডিটেক্টিভ রহস্য, কোনটা ভ্রমণকাহিনী   -- 'বড়দের' লাইব্রেরি থেকে 'বড়দের' বই!  সে এক দারুন  উত্তেজনা । অনেক লেখকের সাথে আলাপ করালো দিদি,  গরমের দুপুরে বিছানায় গড়িয়ে গড়িয়ে বাংলা গল্পের বই পড়ার আনন্দ অনুভব করালো । সে অভ্যেস টিকে গেলো। বইপোকা!

৩. মাসি :  
আমার খুব ঘনিষ্ট বান্ধবীর মা । আমাকে ভীষণ ভালোবাসতেন । মাসির বাড়িতে আলমারিটা ছিল একটা ছোট খাটো লাইব্রেরি । বাংলা বই এ ঠাসা । কস্তুরী আর আমি একসাথে টিউশন পড়তে যেতাম। যাবার পথে ওকে ডাকতে গিয়ে টুক করে একবার আলমারির সামনে দাঁড়াতাম । কোন বইটা? কোন বইটা? চাইবো?  কোনটা চাইবো? বাড়ি নিয়ে যাবো বইটা? মা আবার বকবে নাতো? মাথায় হাজার প্রশ্ন।
এমনি একদিন মাসি জিজ্ঞেস করলো , "সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'প্রথম আলো' পড়েছিস?" । বললাম , না পড়িনি । মাসি আলমারি থেকে বার করে হাতে দিলো প্রথম আলোর দুটো খন্ড ।প্রচন্ড ভালো লেগেছিলো । যেন মনের একটা জানলা খুলে গেছিলো । তারপর থেকে প্রচুর বই পড়েছি ওই আলমারি থেকে। কিন্তু মনের কোনায় সেই দিন থেকে  "প্রথম আলো" গেঁথে আছে কিছুভাবে । মাসি আজ নেই কিন্তু আমার জীবনে  মাসি আর মাসির বইয়ের আলমারির বিশাল অবদান। বইপোকা!

সময় বদলেছে, আমার জীবন ও হঠাৎ করে একদম বদলে গেছে ।

আজ অনেকদিন বাদে হাতে 'প্রথম আলো ' বইটা তুলে নিয়েছি । কয়েক পাতা পড়েই মন চলে গেলো অতীতে ।বাংলা মিস, জেঠতুতো দিদি আর মাসিকে মনে মনে ধন্যবাদ জানালাম । ভাগ্গিশ আমাকে 'বইপোকা' বানিয়েছিলো।......

জীবনের যে কোনো  সময়ে  বইয়ের মতন ভালো বন্ধু আর হয়না ।

Friday, 21 May 2021

Emoticon জিন্দাবাদ !

 😍😃😎
জীবনের একটা কঠিন সময় তোদের নিয়েই কেটে গেলো এবং যাচ্ছে । 
তোদের  স্রষ্টাকে অনেক ধন্যবাদ।
একটা সময় তোদের কেবল মাত্র মজা করে ব্যবহার করেছি, আজ তোদের ভরসায় দূর থেকে ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, সহায়তা, শক্তি, আরো অনেক কিছু অনুভব করার চেষ্টা করি ।
Real আর virtual এর তুলনা করা উচিত নয় । বন্ধুর গলা জড়িয়ে যে আনন্দ সে কি আর একটা symbol এ পাওয়া যায়? কিন্তু আজকে যখন সবাই দূরে , কারোর সাথে দেখা হওয়ার কোনো উপায় নেই, তখন তোরা  যে কত বড় সম্বল তা বলে বোঝানো মুশকিল  .......
Emoticon জিন্দাবাদ !

🤗 
কাছে নেই জানি, যখন দূরে সকল আপনজন,
উষ্ণ স্পর্শ নিয়ে তুমি হাজির ভার্চুয়াল আলিঙ্গন  .......
সত্যি বলছি  ..Virtual hug 🤗 also works!!
হাত বাড়ানো এই ছোট্ট ইমোটিকন আজকাল অনেক কথা বলে, অনেক স্পর্শ অনুভব করায় । হলোই বা ভার্চুয়াল, মনের অনুভূতিটা তো বয়ে আনে ।

❤️ 
তোমায় ভালোবাসি চাই জানাতে  আমি প্রতিক্ষনে,
তাই পাঠালাম টুকটুকে এক হৃদয় তোমার সনে   ............
হাজার হাজার মাইল দূর থেকে রোজ সকালে নিয়ম করে কিছু হৃদয় আসে - জানান দেয়  আমাকে ভালোবাসে ।কাছে আসার অনেক ইচ্ছে মনের মধ্যে লুকিয়ে রাখতে হয়, খানিকটা অসহায়ই বলতে পারো । তবু ঘুম চোখ খুলেই একটা ❤️ পাঠাতে পারলেও যেন খানিকটা নিশ্চিন্ত । কিছুভাবে যেন কানেক্টেড হতে পারা ।

 😜
সামনে যদি থাকতে তুমি, মাটিতে হেসে গড়াগড়ি,
দূরে বলে ইমোজি দিয়ে সেই ইচ্ছে পূরণ করি.... 
আরে বাবা, এই বাজারে কৌতুকরস 😜অত্যন্ত জরুরি। ইমিউনিটির অব্যর্থ ওষুধ ।
চারিদিকের এই পরিস্থিতে ঠোঁটের কোণে হাসি যেন আর আসেনা । অনেক মজার কথা বলতে ইচ্ছে করে কিন্তু কত আর ফোনে বলা যায়? তবু চেষ্টার ত্রুটি নেই, তাই মজার কথা লিখে সাথে যায় জিভ বার করা এক চোখ বোজা ইমোজি। .
তোমার মুখে হাসি দেখতে চাই ।

😭
পাঠিওনাকো সুদূর থেকে চোখের পাতা ভিজে,
ভালো কিছু স্মরণ করে মুছেই ফেলো নিজে। ..........
নাহ , এইখানা পাঠিয়ে কোনো লাভ নেই । চোখের জল দূর থেকে মোছানো একেবারেই সম্ভব নয়। ওটা নিজেকেই সামলাতে হবে যতদিন না দেখা হচ্ছে।আমার মতে এনাকে বেশি ব্যবহার করে লাভ নেই । 

😃😁😊 এই তিন মূর্তি clear winner !!
এদের সাথেই কঠিন সময়ে ছড়াও অনেক হাসি 
যেখানে থাকো এক নিমেষে জানাও ভালোবাসি। ......... 

#হিজিবিজি 


Tuesday, 11 May 2021

চরৈবেতি

চরৈবেতি ।
শব্দটার সাথে পরিচয় হলো কয়েকদিন আগেই ।এক বন্ধু নিচের ছবিতে (ফেসবুকে) কমেন্ট রেখেছিলো। ..
মানেটা ভালো করে বোঝার জন্য একটু গুগল করলাম। 
(Google ছাড়া জীবনের কোনো উপলব্ধিই আর আজকাল সম্ভব নয় )😀
ভীষণ মনে ধরলো কথাটা।
চরৈবেতি : সামনের দিকে এগিয়ে চলার মন্ত্র ।
Keep walking, Keep walking ..........


चरैवेति…चरैवेति!!!
चरन् वै मधु विन्दति चरन् स्वादुमुदुम्बरम्।
सूर्यस्य पश्य श्रेमाणं यो न तन्द्रयते चरंश्चरैवेति॥ 
(ऐतरेय ब्राम्हण ७.१५)
चलते रहो, चलते रहो…
Keep moving, keep moving…

 

বেদ উপনিষদ গীতা বুঝিনা । তাই এই শ্লোকের বিশ্লেষণ করতে পারবোনা । 
শুধুমাত্র জীবনের কিছু সাধারণ ঘটনা দিয়ে এই অসাধারণ শব্দটাকে  উপলব্ধি করার চেষ্টা করছি।  
খুব  প্রিয় জিনিস হারিয়ে যাবার পরে জীবন যখন থেমে যায় , মনে হয় উঠে দাঁড়ানোর শক্তি বুঝি আর নেই, 
ঠিক তখন ........
একটা শব্দ । 
চরৈবেতি । 
এগিয়ে যাবার শক্তি। মনের মধ্যে গেঁথে গেলো ........

                                 *****

১.

রবিবার ব্রাঞ্চের উপমা ও-ই বানাতো। ঘি মসলা জমিয়ে পড়তো তাতে । তারপর সারাদিন অল্প অল্প করে অনেকবার খেতো ।নীলা বানালেই বলতো, দূর, মসলা আর নুন আরো লাগবে, তবেই স্বাদ খুলবে । কখনো বলতো,  এহ একেবারে বিধবাদের উপমা বানিয়েছিস।
নীলা মুখ গোমড়া করতো ।
*
হালকা সবুজ  রংটা বরাবরই ভালো লাগে নীলার । একটা নতুন ফ্রেশ ফিলিং ।যত্ন করে পাটে পাটে পিন লাগিয়ে পরেছিল সেদিন। ও বললো , 'এখন থেকেই বিধবাদের মতন সাজছিস কেন?" । 
হেসে উঠেছিল নীলা ।
*
আজ রবিবার। নীলা হালকা সবুজ শাড়িটা পরে জমিয়ে উপমা বানিয়েছে । ও নেই তাই কোনো কমেন্টও নেই ।অনেক চেষ্টা করেও মসলা আর নুন মনে হচ্ছে ঠিক দিতে পারেনি। খোলেনি তেমন টেস্ট ।
তবু আজ সারাদিন অল্প অল্প করে অনেকবার খাবে নীলা ।

চরৈবেতি,  শুধু এগিয়ে যাওয়া সামনের দিকে  ...........

২.

ওর  ভালো লাগতো cast Iron এর  ভারী পাত্রটাতে রান্না করতে । প্রোফেসনাল Chef দের মতন। 
শখ করে কিনেছিলো, যত্ন করে ব্যবহার করতো। রান্না হয়ে গেলে আবার ধুয়ে মুছে রাখতো। চট করে অন্য কেউ হাত দেওয়ার সাহস করতোনা ।
নীলার অবশ্য কোনোদিন ভালোও লাগতো না ওই বাসনটা । বড্ড ভারী। 
যদিবা কোনোদিন রান্না করেও ফেলতো, রান্নার পর ধুতে ভীষণ রাগ হতো । গজগজ করতো ।
বলতো , "হাত  ব্যথা করে এইটা ধুতে, কেন যে কিনিস এই ভারী বাসনগুলো".....
ও বলতো, "তোর কব্জিতে কোনো জোর নেই। ভিজিয়ে রেখে দে, আমি পরে ধুয়ে দেব"
অনেক স্মৃতি ওই বাসনটা ঘিরে । স্ট্যু আর ইতালিয়ান রিসোত্তো ওই পাত্রে তৈরী করতো ও। 
উইকেন্ডে রান্নার দায়িত্ব ছিল ওর ।
আজ রবিবার । নীলা আজ ওই পাত্রতে  Stew বানালো ।খাওয়া দাওয়া মিটিয়ে পাত্রটা ধুয়েই রাখলো একবারে।
আজ তেমন ভারী লাগলো না।
মনটা যে আজ অনেক বেশি ভারী।

চরৈবেতি,  শুধু এগিয়ে যাওয়া সামনের দিকে  ........... 

৩.

বাড়ি ঢুকেই  ঘরের লাইট জ্বালাবার আগে ও টিভি অন  করতো । বরাবরের অভ্যেস । 
গত ২০ বছর ধরে দেখছে নীলা। দুনিয়ার নিউস না দেখলে চলতোনা ।
সারাদিন CNN অসহ্য লাগতো নীলার। রেগে মেগে মাঝে মাঝে দুকথা শুনিয়েও দিতো।
"কি যে নিউজ দেখিস সারাদিন যেন সারা জগতের দায়িত্ব তোর!"
"আরে বাবা, TV টা ব্যাকগ্রউন্ড মিউজিকের মতন, চলুক"। 
নীলা বেশি অশান্তি করলে, mute করে দিতো TV টা । মুচকি মুচকি হাসতো কিন্তু টিভি অফ করতো না ।
এখন ও নেই। 
তবু CNN চলে সারাদিন। CNN এর নিউস anchor রা কথা দিয়ে ভরিয়ে রাখে শূন্যস্থান ।
মাঝে মাঝে নীলার ইচ্ছে করে কিছু বলতে, কথাগুলো ঠোঁট অবধি এসেও যায় কিন্তু  ...
ঢোক গিলে কথা বলতে শিখছে নীলা।

চরৈবেতি,  শুধু এগিয়ে যাওয়া সামনের দিকে  ........... 

*****

All characters in this are fictitious. Any resemblance to real persons, living or dead is purely coincidental.

😍